নয়াদিল্লি/বেঙ্গালুরু, ২ জুন (আইএএনএস): কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী-মনোনীত ডি.কে. শিবকুমার-এর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে মঙ্গলবারও দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ম্যারাথন বৈঠক চলতে থাকে।
দলীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড শিবকুমারের সঙ্গে শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারে। এদিন মল্লিকার্জুন খাড়গে-র বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কে.সি. ভেনুগোপাল, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং শিবকুমার।
সূত্রের দাবি, ২০২৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ নেতা ও নতুন মুখের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মন্ত্রীত্ব ধরে রাখতে আগ্রহী কয়েকজন প্রবীণ নেতার মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ১০ থেকে ১২ জন প্রবীণ নেতাকে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে। পরে রাজ্যসভা এবং বিধান পরিষদের নির্বাচন শেষ হলে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
জানা গিয়েছে, শিবকুমার এবং সিদ্ধারামাইয়া দু’জনেই নিজেদের পছন্দের মন্ত্রীদের তালিকা হাইকম্যান্ডের কাছে জমা দিয়েছেন। সোমবার সেই তালিকা পর্যালোচনা করার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালায়।
সূত্রের মতে, ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সি নেতাদের জন্য অধিকাংশ মন্ত্রিত্ব সংরক্ষণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হতে পারেন এমন প্রায় ১০ জন নেতাকেও সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ সর্বাধিক ৩৪ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও করেছে বলে জানা গেছে। কে মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন এবং কে বাদ পড়তে পারেন, তা নিয়ে একটি প্রাথমিক তালিকাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে শিবকুমারের হাতে থাকা কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (কেপিসিসি)-র সভাপতির পদ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, কর্নাটকের একাধিক কংগ্রেস নেতা দিল্লিতে অবস্থান করে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে তদবির চালাচ্ছেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী কে.জে. জর্জ সাংবাদিকদের বলেন, “আজ বৈঠক চলছে এবং তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। আমি কংগ্রেসের একজন কর্মী। হাইকম্যান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।”



















