ভোপাল, ২ জুন (আইএএনএস): গ্রামীণ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষিক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে অন্যতম হল স্বামিত্ব প্রকল্পের আওতায় গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে নিবন্ধিত জমির মালিকানার দলিল প্রদান।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় সম্পত্তির মালিকানা আইনগতভাবে স্বীকৃত করার লক্ষ্যে ৪৮ লক্ষ ব্যক্তিগত এবং ১৯ লক্ষ সরকারি সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। উপভোক্তাদের বিনামূল্যে নিবন্ধিত মালিকানার নথি দেওয়া হবে। এর ফলে গ্রামবাসীদের জন্য ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়া সহজ হবে এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধও কমবে।
মধ্যপ্রদেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) মন্ত্রী চৈতন্য কুমার কাশ্যপ জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের ব্যয় হবে ৩,৮০০ কোটিরও বেশি টাকা। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলি কোনও আর্থিক বোঝা ছাড়াই সম্পত্তির সুরক্ষিত মালিকানা লাভ করবে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দফতর প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য সরাসরি নগদ হস্তান্তর (ডিবিটি) পদ্ধতির পরিবর্তে সেলাই করা স্কুল ইউনিফর্ম সরাসরি সরবরাহ করবে। সরকারের মতে, ডিবিটি ব্যবস্থায় বিশেষ করে প্রত্যন্ত আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা নির্ধারিত পোশাক পেত না।
মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রদেশের পোশাক শিল্পকে যুক্ত করে টেন্ডারের মাধ্যমে ইউনিফর্ম তৈরি ও বিতরণ করা হবে। এর ফলে গুণমান বজায় থাকবে এবং সময়মতো পোশাক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও মন্ত্রিসভা বড় অনুমোদন দিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলির জন্য তিনটি প্রকল্প চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৭,০০০ কোটি টাকা। এই অর্থ নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ এবং স্নাতকোত্তর (পিজি) আসন বৃদ্ধি করতে ব্যবহার করা হবে, যা রাজ্যে চিকিৎসকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
এছাড়া ইন্দোরে নির্মীয়মাণ জেলা আদালত ভবনের প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে ৬২৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। এটি রাজ্যের বৃহত্তম আদালত ভবনগুলির অন্যতম হতে চলেছে।
কৃষিক্ষেত্রেও মধ্যপ্রদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ‘কৃষক বর্ষ’ হিসেবে পালিত চলতি বছরে রাজ্যটি গম সংগ্রহে জাতীয় রেকর্ড গড়েছে। এ বছর ১ কোটি ৪০ লক্ষ টনেরও বেশি গম সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন ১৩ লক্ষেরও বেশি কৃষক।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা কৃষকদের প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোভিড-১৯ সময়কালের মন্দা কাটিয়ে মধ্যপ্রদেশ বর্তমানে গম সংগ্রহে দেশের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, শুধুমাত্র পাঞ্জাবের পিছনে। পাশাপাশি মুগ ও উড়দ ডালের নিবন্ধন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যাতে সময়মতো এই ফসলগুলিও সংগ্রহ করা যায়।



















