তিরুবনন্তপুরম, ২ জুন (আইএএনএস): কেরল বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হলেন কংগ্রেস বিধায়ক শানিমল ওসমান। এর মাধ্যমে তিনি ৬৬ বছরের মধ্যে প্রথম কংগ্রেস মহিলা নেতা হিসেবে এই সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন। পাশাপাশি কেরলের বিধানসভা ইতিহাসে তিনি চতুর্থ মহিলা ডেপুটি স্পিকার।
মঙ্গলবার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সিপিআই প্রার্থী মুহাম্মদ মুহাসিন-কে পরাজিত করে নির্বাচিত হন শানিমোল উসমান। স্পিকার থিরুভানচুর রাধাকৃষ্ণান আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর জয়ের ঘোষণা করেন।
স্পিকার জানান, শানিমোল উসমান ৯৯টি ভোট পেয়েছেন, অন্যদিকে মুহাম্মদ মুহাসিন পেয়েছেন ৩৪টি ভোট। চারজন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন, যার মধ্যে স্পিকার নিজেও ছিলেন।
এরপর স্পিকার তাঁকে নতুন আসনে বসার আহ্বান জানান। বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চের প্রথম সারিতে, বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন-এর পাশের আসনে বসেন তিনি। পিনারাই বিজয়ন তাঁকে অভিনন্দন জানান।
বর্তমানে ১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর সদস্য সংখ্যা ১০২। সিপিএম নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)-এর বিধায়ক সংখ্যা ২৫। বিজেপির রয়েছে তিনজন বিধায়ক।
ভোটাভুটির সময় বিজেপি সদস্যরা নিজেদের আসনে বসে থাকলেও ভোটদানে অংশ নেননি। তবে স্পিকার নির্বাচনের সময় তারা নিজস্ব প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল।
আরুর কেন্দ্রের বিধায়ক শানিমোল উসমান সম্প্রতি ৬০ বছরে পা দিয়েছেন। তাঁর নির্বাচন দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মৃদুভাষী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত উসমান ছয়টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি আলাপ্পুঝা লোকসভা কেন্দ্র থেকেও নির্বাচন লড়েছিলেন। একই বছরে আলাপ্পুঝা বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রথমবার জয়ী হন। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হন, ২০২৬ সালে আরুর কেন্দ্র থেকে জিতে পুনরায় বিধানসভায় ফেরেন।
তাঁর এই নির্বাচন কেরলের আইনসভা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে পুনরুজ্জীবিত করেছে। কংগ্রেসের শেষ ডেপুটি স্পিকার ছিলেন এ. নাফিসাথ বিবি, যিনি ১৯৬০ সালে এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কেরলের প্রথম বিধানসভায় সিপিআই নেতা কে.ও. আয়েশা বাই ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ১৯৮৭ সালে সিপিআই নেতা ভার্গবী ধন্যবাদ এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়া শেষ মহিলা ছিলেন।
প্রায় চার দশক পর আবারও কেরল বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের আসনে একজন মহিলা নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যের সংসদীয় ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
______



















