নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): তেলঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যের উন্নয়নযাত্রায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে তেলঙ্গানার অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রতি বছর ২ জুন তেলঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়। ২০১৪ সালের এই দিনে অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে পৃথক করে ভারতের ২৯তম রাজ্য হিসেবে তেলঙ্গানার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। দীর্ঘদিনের গণআন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই রাজ্যের মূল লক্ষ্য ছিল সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্বশাসনের দাবি প্রতিষ্ঠা।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তেলঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবসের এই বিশেষ দিনে রাজ্যের মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। উদ্ভাবন ও উদ্যোগী মনোভাবের জন্য তেলঙ্গানার মানুষ সুপরিচিত। রাজ্যটি তার গৌরবময় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জন্যও সমাদৃত, যা সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তেলঙ্গানার উন্নয়নযাত্রায় কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজ্যের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করি।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-ও তেলঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিশ্রমী মানুষের জন্য তেলঙ্গানা বিশেষ পরিচিত। উদ্ভাবন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। রাজ্যের মানুষের ধারাবাহিক উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করি।”
উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, “সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও প্রাণবন্ত ঐতিহ্যে ভরপুর তেলঙ্গানা দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এখানকার মানুষের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তা দেশের উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। রাজ্যের কল্যাণ এবং বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে সবাই একসঙ্গে কাজ করুন, এই কামনা করি।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও তেলঙ্গানার জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও উদ্যোগী মানসিকতার জন্য পরিচিত তেলঙ্গানা আরও উন্নতি ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাক এবং ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করুক।”
অন্যদিকে, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এক্স-এ এক বার্তায় বলেন, “প্রতি বছর ২ জুন আমাদের অতীতের ত্যাগের কথা স্মরণ করায় এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেয়। তেলঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজ্যের সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
তেলঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যের ৩৩টি জেলাতেই সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণত এই দিনের প্রধান সরকারি অনুষ্ঠানে সেকেন্দ্রাবাদ প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
তেলঙ্গানার প্রতিষ্ঠা দিবস কেবল একটি প্রশাসনিক ঘটনার স্মারক নয়, বরং দীর্ঘ আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।



















