আগরতলা, ৯ মে : গন্ডাছড়া মহকুমার ডুম্বুর জলাশয়কে কেন্দ্র করে প্রায় ছয়শো কোটি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই সমস্ত কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। বহিঃরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা এসএম একোয়া এগরো প্রাইভেট লিমিটেডের কোনো হদিস না মেলায় অবশেষে রাজ্য সরকার ও টিটিএএডিসি প্রশাসনের নির্দেশে পুনরায় ডুম্বুর জলাধারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে মৎস্য দপ্তর।
জানা গিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে টিটিএএডিসি সরকারের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ডুম্বুর জলাশয় সহ বিস্তীর্ণ ফিসারী অঞ্চল লিজ নেয় এসএম একোয়া এগরো প্রাইভেট লিমিটেড নামে বহিঃরাজ্যের একটি সংস্থা। ডুম্বুর জলাশয়কে আধুনিক মৎস্য উৎপাদন ও প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সংস্থাটি কাজ শুরু করেছিল।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ডুম্বুর জলাশয় ও গন্ডাছড়া ফিসারী অফিস চত্বরে জোরকদমে কাজ শুরু হয়। জলাশয় সংস্কার, শতাধিক পুরোনো পুকুর পুনরায় খনন, মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফ কারখানা নির্মাণ, জলাশয়ের বিভিন্ন অংশে মাছ সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলা সহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয় সংস্থাটি। প্রায় ছয়শো কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছিল।
কিন্তু মাত্র ছয় মাস কাজ চলার পর হঠাৎ করেই সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই সংস্থার কোনো প্রতিনিধি বা আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। গত দেড় বছর ধরে সংস্থার কাউকেই এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গন্ডাছড়া মৎস্য খামার সূত্রে খবর, মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বহুবার ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে ফিসারী অফিস সংলগ্ন এলাকায় বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, নতুন পুকুর খনন সহ কোটি কোটি টাকার কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ডুম্বুর জলাশয়ের লাইসেন্সধারী মৎস্য শিকারীদের অভিযোগ, বহিঃরাজ্যের ওই সংস্থা ত্রিপুরা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এখন ফের নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে রাজ্য ও এডিসি মৎস্য দপ্তর।
তবে এত বড় প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পিছনে আসল কারণ কী, কেন সংস্থাটি কাজ মাঝপথে ছেড়ে দিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।



















