কলকাতা, ৭ মে (আইএএনএস): বিজেপি নেতা তথা সদ্য প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, নতুন সরকার গঠনের আগে “রাজনৈতিক বার্তা” দিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ। মাথা, বুক ও পেটে একাধিক গুলি লাগে তাঁর। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ভিভা সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
একই গাড়িতে থাকা বুদ্ধদেব বেরা নামের আরেক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। তিনি এখনও হাসপাতালে সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনা প্রসঙ্গে সমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। ভিডিও ফুটেজে যা দেখা যাচ্ছে এবং পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম যা বলছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে প্রথমে গাড়ির উইন্ডশিল্ড রড দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এটা সাধারণ অপরাধ নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আর দু’দিন পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা রাজ্যে আসছেন। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আসবেন। তার আগে এই ঘটনা ঘটল। কেউ রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে বা বিজেপিকে টার্গেট করতে চাইছে। বাংলার রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষ নিশ্চয়ই বিষয়টি বুঝবেন।”
তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং “হিংসা ও ভয়ের বিরুদ্ধে মানুষ ইতিমধ্যেই নিজেদের রায় দিয়েছে।”
এদিকে বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরাজয় মেনে নিতে পারছে না সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।
তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস হতাশ হয়ে পড়েছে। তাদের ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরাও এই ফল মেনে নিতে পারছে না। ৪ মে-র পর কী হবে, তা দেখিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। চন্দ্রনাথ রথ কোনও রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। ভয় দেখানো এবং টার্গেট করাই এই হামলার উদ্দেশ্য।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা-ও এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার মানুষ মনে করছেন এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে। সরকার বদলের সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”



















