আগরতলা, ৭ মে : ছোট ছেলের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে অবশেষে থানার দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলেন এক অসহায় মা।
জানা যায়, আমতলী থানার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা মুসলিম পাড়া ১ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা স্বপন সরকার ২০১২ সালে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী অমিতা সরকার অত্যন্ত কষ্ট করে মানুষের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করে তোলেন। পরবর্তীতে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বড় ছেলেরও বিয়ে দেন তিনি। দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল তাদের সংসার।
কিন্তু ইদানিং অমিতা সরকারের ছোট ছেলে কর্ণজিৎ সরকার মায়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে বলে অভিযোগ। শুধু মাকেই নয়, তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে হেনস্থা ও নির্যাতন করতে থাকে সে। অভিযোগ, প্রায়শই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে এসে কর্ণজিৎ সরকার বাড়ি থেকে মাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি লাঠি নিয়ে মা ও বৌদিকে মারধরেরও চেষ্টা চালায়। পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
দীর্ঘদিন ধরে ছেলের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করছিলেন অমিতা সরকার। কিন্তু বুধবার গভীর রাতেও একইভাবে হামলার চেষ্টা চালানো হলে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় মা ও বৌদির। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে অমিতা সরকার এবং তার পুত্রবধূ আমতলী থানায় গিয়ে অভিযুক্ত কর্ণজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুত্রবধূ জানান, “যে ছেলে নিজের মা এবং বড় ভাইকে সম্মান করতে জানে না, সে কখনোই অন্য কাউকে সম্মান দিতে পারে না। যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, আজ সেই মায়ের উপরই আক্রমণ চালাতে উদ্যত হচ্ছে সে।
অভিযোগপত্র জমা নেওয়ার পর পুলিশ তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















