কলকাতা, ৬ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পদত্যাগ না করা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।
বুধবার তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও ফল ঘোষণা করা পর্যন্তই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সীমাবদ্ধ, এরপরের সমস্ত প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।
আগরওয়াল বলেন, “সংবিধান যা বলে, সেটাই হবে। এ বিষয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই। নির্বাচন কমিশনের আর কোনও ভূমিকা নেই।”
প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ভারতের নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত প্রার্থীদের বিষয়ে আইনি নোটিফিকেশন জারি করে তা রাজ্যপালের কাছে পাঠায়। এরপর রাজ্যপাল নতুন বিধানসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হল কোন আসনে কে জিতেছেন, সেই সংক্রান্ত নোটিফিকেশন রাজ্যপালকে দেওয়া। পুরনো বিধানসভার মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে, ফলে নতুন বিধানসভা গঠিত হবে। এরপর বিধায়কদের শপথগ্রহণ হবে এবং প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি হবে।”
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের বড় নির্বাচনী ধাক্কার পর রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তবে ফলাফল মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই ফল মানুষের প্রকৃত রায় নয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না।
এদিকে, বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠনের পথে। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১৯৬। ঘোষিত ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয় পেয়ে সেই সীমা অতিক্রম করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে ২১ মে পুনর্নির্বাচন হবে এবং গণনা হবে ২৪ মে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ফলাফলে রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ধরা পড়েছে। কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং-সহ ১০টি জেলায় তৃণমূল একটিও আসন পায়নি। আদিবাসী ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাতেও দলটি পিছিয়ে পড়েছে।
এখন সকলের নজর রাজ্যপালের দপ্তরের দিকে, যেখান থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
______



















