নয়াদিল্লি, ৬ মে (আইএএনএস): দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ নাংলোই এলাকার বক্করওয়ালায় একটি অবৈধ এলপিজি রিফিলিং ও মজুতদারি চক্র ভেঙে দিয়েছে। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ৯৬টি এলপিজি সিলিন্ডার, একাধিক যানবাহন ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণ, কারচুপি ও রিফিলিং করত এবং পরে তা কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করত।
নাংলোই এলাকায় এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ চলছে—এমন নির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়। বক্করওয়ালা রোডের লক্ষ্মীনগরে জয় শিব নার্সারির পিছনে একটি ফাঁকা জমিতে এই অভিযান হয়। সেখানে মোট ৯৬টি সিলিন্ডার মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা তিনটি গাড়ি—দুটি টাটা এস টেম্পো ও একটি বাজাজ ম্যাক্সিমায়ও সিলিন্ডার বোঝাই অবস্থায় ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে সুলতানপুরীর বাসিন্দা বিনোদ (৩৭), নাংলোইয়ের বিজয় (৩৮) এবং কানঝাওলার বাসিন্দা বংশ রাজ (২৬)-কে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা এত সংখ্যক সিলিন্ডার রাখার কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিকাশপুরীর ফুড অ্যান্ড সাপ্লাই অফিসারকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি পরিদর্শনের পর জানান, যথাযথ অনুমতি ছাড়া এত পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার মজুত ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর ১২৫, ৩১৮(২) ও ৩(৫) ধারায় এবং ১৯৫৫ সালের প্রয়োজনীয় পণ্য আইন-এর ৩ ও ৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৯৬টি এলপিজি সিলিন্ডার, তিনটি পরিবহণের গাড়ি, তিনটি ওজন মাপার যন্ত্র এবং দুটি ধাতব পাইপ। এই পাইপগুলির মাধ্যমে এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করা হত বলে অভিযোগ, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা এলপিজি ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং গ্যাস এজেন্সি থেকে প্রাপ্ত সিলিন্ডার নির্ধারিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে না দিয়ে ফাঁকা জমিতে মজুত করত। পরে বেআইনি সরঞ্জাম ব্যবহার করে গ্যাস ভরে তা বেশি দামে বাজারে বিক্রি করত।



















