ঢাকা, ৫ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশ-এ আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের আগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধা ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের লাইব্রেরির প্রবেশদ্বারে এই ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগপন্থী সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী “সাধারণ আইনজীবী পরিষদ”-এর ব্যানারে মনোনয়নপত্র তুলতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘দ্য ডেইলি স্টার’ জানায়, বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা তাঁদের প্রবেশে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বার নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা লাইব্রেরির দরজা বন্ধ করে দেন, যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা সেখানেই বিক্ষোভে বসেন।
আওয়ামী লীগপন্থী প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফখরুদ্দিন জাবেদ অভিযোগ করেন, “মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে আমাদের লাইব্রেরিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আগের নির্বাচনেও আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি।”
অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের চট্টগ্রাম ইউনিটের সদস্য-সচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মতো পরিবেশ নেই।
চট্টগ্রাম জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ২১ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বার অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে।
এর আগে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
একই ধরনের পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে বরিশাল ও মানিকগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে, যেখানে যথাক্রমে ৩ এপ্রিল ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়।
কুমিল্লার এক আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী গোলাম ফারুক জানান, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচার চালাতে পারেননি এবং বিভিন্ন দিক থেকে হুমকির মুখে পড়েছিলেন।
এদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন-এর ১৩-১৪ মে-র নির্বাচনে ৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে, যা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


















