আগরতলা, ৩০ এপ্রিল : ত্রিপুরা বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশন বৃহস্পতিবার নারীদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিয়ে তীব্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার সাক্ষী থাকল। মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে দেশজুড়ে সীমা নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) এবং সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, যা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামে পরিচিত, কার্যকর করতে সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রস্তাবে সমস্ত সংসদীয় রাজনৈতিক দলকে নারীদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কেন্দ্রের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার দিকেও নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিআই(এম) বিধায়ক শ্যামল চক্রবর্তী এই প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী দলগুলিকে দোষারোপ করার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নারীদের সংরক্ষণ নিয়ে কোনও বিরোধিতা নেই, বরং প্রয়োজনে ৩৩ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়ার পক্ষেও সমর্থন রয়েছে।
চক্রবর্তী আরও বলেন, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী সংরক্ষণ বিল সামান্য সংশোধন করলেই দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব। শাসক দলের আন্তরিকতার অভাবের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিল বাস্তবায়নে বিলম্বের সমালোচনা করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ৩০ লক্ষের বেশি কর্মীর মধ্যে মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ নারী—এই বৈষম্যের দিকেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় নারীদের সংরক্ষণকে সমর্থন জানিয়ে তৃণমূল স্তরে নারীর ক্ষমতায়নে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। রাজীব গান্ধীর আমলসহ পরবর্তী সময়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব ৫০ শতাংশে উন্নীত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রায় বলেন, সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হালনাগাদ ও সঠিক জনগণনা অপরিহার্য। ডিলিমিটেশন বা জনগণনা প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার না করার সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা বজায় থাকলে কংগ্রেস এই বিলের বিরোধিতা করবে না বলেও স্পষ্ট করেন।
সমগ্র আলোচনায় নারীর সংরক্ষণ নীতির মূল বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিস্তৃত ঐকমত্য লক্ষ্য করা গেলেও, এর সময়সূচি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং ডিলিমিটেশনের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে মতভেদ বজায় রয়েছে।



















