লখনউ, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র বিধায়করা। তাঁদের অভিযোগ, এই ইস্যুতে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এক দিনের বিশেষ অধিবেশনের আগে এই বিক্ষোভ হয়। ওই অধিবেশনে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে পারে রাজ্য সরকার। অভিযোগ, লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাস না হওয়ার জন্য বিরোধীরাই দায়ী।
“৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করো” লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে বিধানসভা ভবনের বাইরে প্রতিবাদে শামিল হন এসপি বিধায়করা।
এসপি বিধায়ক অতুল প্রধান শাসক দলকে কটাক্ষ করে বলেন, “এই বিষয়ে তাদের অবস্থান বিভ্রান্তিকর এবং জনগণকে ভুল পথে চালিত করছে।”
বিক্ষোভের জবাবে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী দানিশ আনসারি পাল্টা অভিযোগ করেন, এসপি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি মহিলাদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে। তাঁর দাবি, সংসদের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়নের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বিরোধীরাই আটকে দিয়েছে। এই বিষয়েই বিধানসভায় আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্য মন্ত্রী অসীম অরুণ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মহিলাদের জন্য আইনসভায় এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু সমাজবাদী পার্টি এই বিলের বিরোধিতা করছে এবং সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের সংরক্ষণে বাধা তৈরি করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”
পরিবহণ মন্ত্রী দয়াশঙ্কর সিংও বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “যেভাবে বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট তারা চায় না সাধারণ মহিলারা নিজেদের যোগ্যতায় বিধায়ক বা সাংসদ হোন।”
মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভরও বিরোধীদের ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগে তীব্র আক্রমণ শানান।
উল্লেখ্য, ২৭ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা-এ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যদিও কংগ্রেস তা অবিলম্বে চালুর দাবি জানায়।
প্রস্তাবিত এই আইনে সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল এবং আসনসংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থাও ছিল। তবে দীর্ঘ বিতর্কের পরও এটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পাস হয়নি।
এই বিশেষ অধিবেশনেই বিলটি ব্যর্থ হওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা এবং মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হতে পারে।



















