কলকাতা, ২৯ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে ধাপে ধাপে বাড়ছে ভোটের হার। সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রথম চার ঘণ্টায় ৩৯.৯৭ শতাংশ ভোট পড়ার পর দুপুর ১টা নাগাদ সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.১১ শতাংশে।
প্রথম দফার তুলনায় এই হার কিছুটা কম। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় একই সময়ের মধ্যে যথাক্রমে ৪১.১ শতাংশ (চার ঘণ্টায়) এবং ৬২.১৮ শতাংশ (ছ’ঘণ্টায়) ভোট পড়েছিল।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সকাল ১১টা পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় সর্বাধিক ৪৪.৫০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬.৮০ শতাংশে। পাশাপাশি হুগলি, নদিয়া, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার দুই নির্বাচনী জেলাতেও উল্লেখযোগ্য হারে ভোট পড়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় এবারের ভোটের হার অনেক বেশি—চার ঘণ্টায় ২৮.১০ শতাংশ এবং ছ’ঘণ্টায় ৪৫.১০ শতাংশের গড়কে ছাপিয়ে গিয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী দলনেতা সুবেন্দু অধিকারী-কে ফোন করে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। এই কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে অধিকারীর সরাসরি লড়াই চলছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিস্ফোরণ ও কাঁচা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে এনআইএ-র দল।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি বুথে বিজেপি প্রার্থীর ইভিএম বোতাম সাদা টেপ দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণ বাসুলনাথ গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে পৌঁছে যায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স এবং ভোটারদের নিরাপত্তা দিয়ে বুথে নিয়ে যায়।
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলর ও এক নির্দল প্রার্থীর মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়া নদিয়ার চাপড়া কেন্দ্রে ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগে এক তৃণমূল পোলিং এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
রাজ্যের ১৪২টি আসনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ভোটগ্রহণ চলছে, যদিও বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার খবর সামনে আসছে।



















