নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল : ২০২৬ সালের হজ যাত্রা ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। ওইদিনই দেশের বিভিন্ন এমবার্কেশন পয়েন্ট থেকে প্রথম দফার ভারতীয় হাজযাত্রীরা সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। চলতি বছরে মোট ১,৭৫,০২৫ জন হাজযাত্রী এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সকল হাজযাত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, যাত্রা যাতে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, তার জন্য কেন্দ্র সরকার বদ্ধপরিকর। এ বছর পরিষেবার মানোন্নয়নে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক, যা হজের নোডাল সংস্থা, হজ কমিটি অব ইন্ডিয়া, অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
এবারের হজে যাত্রীদের সুবিধার্থে একাধিক আধুনিক ও উন্নত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ডিজিটাল পরিষেবা বাড়াতে ‘হজ সুবিধা অ্যাপ’-এর ব্যবহার জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজ সুবিধা স্মার্ট রিস্টব্যান্ড চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পথ হারানো যাত্রীদের সহজে শনাক্ত ও সাহায্য করা সম্ভব হবে। প্রথমবারের মতো প্রায় ২০ দিনের স্বল্প-মেয়াদি হজ প্যাকেজ চালু করা হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য আরও নমনীয়তা নিয়ে আসবে। এছাড়া প্রতি হাজযাত্রীর জন্য প্রায় ৬.২৫ লক্ষ টাকার বর্ধিত বিমা সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যা তাঁদের আর্থিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। প্রায় ৬০,০০০ যাত্রীর জন্য মক্কা ও মদিনার মধ্যে উচ্চগতির ট্রেন পরিষেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত সম্ভব হয়। এর সঙ্গে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা, রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে হজ যাত্রাকে আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তুলবে।
এছাড়াও, মদিনায় হোটেল-স্টাইলের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রা প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে মোট ১৭টি এমবার্কেশন পয়েন্ট থেকে হজ যাত্রা পরিচালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি, মুম্বই, লখনউ, হায়দরাবাদ, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, শ্রীনগরসহ একাধিক শহর।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, হাজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য সৌদি প্রশাসনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত সব নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের হজ যাত্রা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হয়।
শেষে, কিরেন রিজিজু সকল হাজযাত্রীর সফল ও শুভ যাত্রা কামনা করেছেন।



















