News Flash

  • Home
  • দেশ
  • পাকিস্তান-সংযুক্ত ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ থেকে মাদক পাচার বৃদ্ধি, বহু সংস্থার যৌথ অভিযান জোরদার ভারতের
Image

পাকিস্তান-সংযুক্ত ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ থেকে মাদক পাচার বৃদ্ধি, বহু সংস্থার যৌথ অভিযান জোরদার ভারতের

নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল (আইএএনএস): পাকিস্তান-আফগানিস্তান অঞ্চলভিত্তিক ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ থেকে ভারতে মাদক পাচারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। এই প্রেক্ষিতে মাদক চোরাচালান রুখতে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, ভারতে আসা মোট মাদকের প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ এলাকা থেকে। বাকি অংশ আসে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ অঞ্চল (মায়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ড) থেকে। পাকিস্তানভিত্তিক চক্রগুলি মাদক পাচারের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের চেষ্টা করছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, বর্তমানে দক্ষিণ ভারত—বিশেষ করে কেরল ও তামিলনাড়ুর দিকে বেশি পরিমাণে মাদক পাঠানো হচ্ছে। তার আগে গুজরাট ও মহারাষ্ট্র উপকূল দিয়ে এই মাদক দেশে ঢোকানো হয়। এরপর দেশীয় বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাতেও পাচার করা হয়।

অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-ভিত্তিক চক্রগুলিই মূলত সক্রিয় বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি), ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এনটিআরও) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ থেকে আসা মাদক শনাক্ত করতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির নৌকা ও ছোট মাছ ধরার নৌযানগুলির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

সম্প্রতি চোরাচালান চক্রগুলি বাণিজ্যিক শিপিং কনটেইনার ব্যবহার করে বড় আকারে মাদক আনার চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে। এই অঞ্চলের মাদকগুলির মধ্যে মূলত চরস ও মেথামফেটামিন উল্লেখযোগ্য।

ভারত সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গেও সমন্বয় বাড়াচ্ছে এই সমস্যা মোকাবিলায়। এক আধিকারিক জানান, “শুধু নিজেদের উদ্যোগ নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি।”

তবে গত তিন মাসে নজরদারি বাড়ানোর ফলে মাদক পাচারের কার্যকলাপে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাগুলি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে জোর দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৯ সাল পর্যন্ত একটি রোডম্যাপ তৈরি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আগামী তিন বছরে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা ব্যুরোর এক আধিকারিকের মতে, ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ থেকে সরবরাহ কমে গেলে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ থেকে পাচার বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। কারণ, এই দুই অঞ্চলের চক্রগুলি পরস্পর সংযুক্ত।

সব মিলিয়ে, মাদক পাচার রুখতে বহু সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপই আগামী দিনে প্রধান কৌশল হতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

Releated Posts

হরমুজ সংকটের পর ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত সাময়িক মোকাবিলা নয়, স্থায়ী স্থিতিস্থাপকতা

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংকট ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে—শুধু বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নয়,…

ByByNews Desk Sep 5, 2026

বাডগামে ‘অপারেশন আশদার’-এ নিহত জঙ্গি পাকিস্তানি, লস্কর-ই-তৈবার সদস্য বলে শনাক্ত

শ্রীনগর, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে নিহত জঙ্গিকে পাকিস্তানি নাগরিক…

ByByNews Desk Sep 5, 2026

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে ৪৮ শিক্ষকের সম্মাননা, পড়ুয়াদের কাছ থেকেও শেখার কথা স্মরণ রাষ্ট্রপতি মুর্মুর

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শনিবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে দেশের ৪৮ জন শিক্ষককে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে…

ByByNews Desk Sep 5, 2026

সহিংসতা থেকে রাজনীতিতে: ধরপাকড়ের পর খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলিকে কৌশল বদলের নির্দেশ আইএসআইয়ের

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলি তাদের কর্মকৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি গোয়েন্দা আধিকারিকদের। পাকিস্তানের…

ByByNews Desk Sep 5, 2026
Scroll to Top