ভারত–মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: স্মরণে রবার্ট মুলার

ওয়াশিংটন, ২২ মার্চ: রবার্ট এস. মুলার (তৃতীয়), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর প্রাক্তন পরিচালক, তাঁর মৃত্যুর পর ভারতে স্মরণ করা হচ্ছে ভারত–মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য। ৮১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মুলারের কর্মজীবন মূলত ৯/১১-পরবর্তী আমেরিকার নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের সঙ্গে জড়িত হলেও, ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা-এর পরপরই এবং ভারতের সংসদে হামলার কিছুদিন পর, তিনি প্রথমবার ভারতে সফর করেন।

নয়াদিল্লিতে তিনি ভারতীয় আধিকারিকদের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। এই সফরই দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা-এর পর সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ২০০৯ সালের শুরুতে মুলার আবার ভারতে আসেন, যখন মুম্বই হামলার অভিঘাতে দেশ তখনও বিপর্যস্ত।

সে সময় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম. কে. নারায়ণন এবং শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হামলার তদন্ত, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং প্রমাণ ও তথ্য ভাগাভাগির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুলারের নেতৃত্বে এফবিআই দল ভারতীয় তদন্তকারীদের সঙ্গে কাজ করে হামলার ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ, যোগাযোগের তথ্য পুনর্গঠন এবং ফরেনসিক তদন্তে সহায়তা করে। এতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা মেলে।

পরবর্তীতে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনও এক দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই সময় থেকেই ভারত–মার্কিন সহযোগিতা নতুন রূপ পায়। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় দ্রুততর ও সংগঠিত হয়, এবং সাইবার ফরেনসিক, সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ, বিমান নিরাপত্তা ও যৌথ তদন্ত ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উত্তরাধিকার কিছুটা বিতর্কিত, তবুও ভারতে তাঁকে মূলত সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়।

মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর মৃত্যুতে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মৃত্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। অন্যদিকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা তাঁর জনসেবার প্রশংসা করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুলারের ভারত সফর—বিশেষ করে ২০০২ ও ২০০৯ সালে—একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে চিহ্নিত করে, যখন দুই দেশের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা কথোপকথন থেকে বাস্তবিক কার্যক্রমে রূপান্তরিত হয়।

আজও সেই কাঠামোই ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে, যা সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ থেকে ডিজিটাল চরমপন্থা পর্যন্ত বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলায় সহায়ক।

Leave a Reply