আগরতলা, ২০ মার্চ : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত তিনটি বিলকে ঘিরে আজ ত্রিপুরা বিধানসভায় তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। বিলগুলির বিরোধিতা করে কংগ্রেস ও সিপিএম শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউট করেছে।
বিল তিনটি হল, সায়েন্স টেকনোলজি অ্যান্ড অ্যালাইড স্কিল ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা বিল, ২০২৬, অটল বিহারী বাজপেয়ী স্কিল ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা বিল, ২০২৫ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা বিল, ২০২৫। বিরোধীদের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এগুলোর কাছে ইউজিসি-র অনুমোদন নেই।
শুক্রবার বিধানসভার ষষ্ঠ দিনে অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া বিলগুলো পাশের জন্য উপস্থাপন করলে বিরোধী দলনেতা ও সিপিআই(এম) বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরী তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য বিলের মধ্যে নেই। বিশেষ করে ভারত এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল ট্রাস্ট, হাপুর-এর উল্লেখ থাকলেও তাদের অবস্থান বা পটভূমি সম্পর্কে কিছুই স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে অনুমোদন পাওয়া একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে না আছে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, না আছে শিক্ষক। তবুও তারা পিএইচডি পর্যন্ত কোর্স চালু করছে। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি এই বিলগুলো সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানান।
অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনও একই সুরে সমালোচনা করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টটি মূলত একটি কনসালটেন্সি সংস্থার মতো কাজ করে। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ইউজিসি অনুমোদন বা বিশ্বাসযোগ্য র্যাঙ্কিং নেই। বিলগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
জবাবে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, ইউজিসির সমস্ত নির্দেশিকা মেনেই এই বিলগুলো আনা হয়েছে এবং মন্ত্রিসভা বিস্তারিত যাচাইয়ের পরই অনুমোদন দিয়েছে। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে বিরোধী সদস্যরা সভাকক্ষের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউট করেন।

