খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা সংযোগ রক্ষাকারী জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মার্চ: বর্তমানে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা সংযোগ রক্ষাকারী জাতীয় সড়ক ২০৮-এর খোয়াই থেকে হরিনা অংশটিকে দুই লেনে উন্নীত করার কাজ চারটি পৃথক প্যাকেজের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক পাঠান লাল জমাতিয়ার আনা এক দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০১৪-১৫ সালের আগে ত্রিপুরায় ৩৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট দুটি জাতীয় সড়ক ছিলো। পরবর্তীকালে রাজ্যে আরও চারটি নতুন জাতীয় সড়ক হওয়ায় এই মুহূর্তে জাতীয় সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৯২৩.৩১ কিলোমিটার। খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা সংযোগ রক্ষাকারী ২০৮ নং জাতীয় সড়ক এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ত্রিপুরার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক উন্নতির অন্যতম চাবিকাঠি হলো ২০৮ নং (কুমারঘাট, কৈলাসহর, কমলপুর, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, অমরপুর, হরিনা) জাতীয় সড়ক। প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সড়কটি কৈলাসহর, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, অমরপুর এবং করবুকের মতো রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মহকুমাগুলিকে সরাসরি যুক্ত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সড়কটির এক নং প্যাকেজের অন্তর্গত খোয়াই থেকে তেলিয়ামুড়া অংশের ২৬ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ ৫৪.০৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২ নং প্যাকেজে তেলিয়ামুড়া থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ৩৭.২৪ কিমি অংশের নির্মাণ কাজ ৫২.৭৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। বর্তমান কাজের গতি বজায় থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন নং প্যাকেজে রাঙ্গামাটি থেকে পতিছড়ি অংশের ৩৬ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের ৩১ মে সম্পন্ন করার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। চার নং প্যাকেজে পতিছড়ি থেকে হরিনা পর্যন্ত ৩৫.৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সড়কের পুরোনো আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলির পরিবর্তে বাঁকগুলি সোজা করতে প্রায় ৪১ কিলোমিটার নতুন এলাইনমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী পুরাতন রাস্তাটি সচল ও চলাচলের উপযোগী রেখেই নতুন এলাইমেন্টের কাজ চলছে। এই লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নতুন রাস্তা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো রাস্তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাথে উত্তর ত্রিপুরার সংযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই উন্নত সড়ক পথ ভবিষ্যতে রাজ্যের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে আরও দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলবে।

Leave a Reply