এনডিপিএস মামলায় অভিযুক্ত মহিলাকে জামিন, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

আগরতলা, ২০ মার্চ: এনডিপিএস মামলায় অভিযুক্ত এক মহিলাকে জামিন মঞ্জুর করেছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সম্ভাব্য প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

১৬ মার্চ প্রদত্ত রায়ে বিচারপতি এস দত্ত পুরকায়স্থ সোনামুড়া থানার মামলা নম্বর ৯৭/২০২৫-এ গ্রেপ্তার হওয়া পপি আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন। মামলাটি এনডিপিএস ধারার ২০(বি)(ii)(বি), ২৫ এবং ২৯ ধারায় দায়ের করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ রাতে নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে সোনামুড়ায় অভিযুক্তের বাড়ি থেকে প্রায় ৫.৯৮৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তের স্বামী পালিয়ে যায় এবং এখনও পলাতক রয়েছে। শুনানির সময় প্রতিরক্ষা পক্ষ দাবি করে, অভিযুক্তকে রাতে আটক করা হলেও পরদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যা মহিলাদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়মের বিধান লঙ্ঘন করে। এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ভিত্তিতেই জামিন প্রাপ্য বলে তারা যুক্তি দেয়।

অন্যদিকে, রাজ্য পক্ষ জানায় যে জরুরি পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে পালানো থেকে আটকাতে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং সব ক্ষেত্রে এই বিধান কঠোরভাবে প্রযোজ্য নয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য ও বিভিন্ন আদালতের রায় পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, মহিলাদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা বিধান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা লঙ্ঘিত হলেই প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জামিনের অধিকার সৃষ্টি হয় না। তবে আদালত উল্লেখ করে, ২৪ নভেম্বর রাতে আটক করার পর কেন পরদিন সকালে গ্রেপ্তার দেখানো হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে আদালত মত দেয়, যদিও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।

উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণির, তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে রয়েছেন—এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আদালত কড়াকড়ি শর্তে জামিন মঞ্জুর করে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে ১ লক্ষ টাকার বন্ড, আদালতের অনুমতি ছাড়া ত্রিপুরা ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, প্রতি সপ্তাহে ট্রায়াল কোর্টে হাজিরা এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত না করার নির্দেশ।

এছাড়াও আদালত রাজ্যের ডিজিপিকে নির্দেশ দেয়, সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ পদমর্যাদার নিচে নয় এমন একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পুরো ঘটনার তদন্ত করতে এবং ইচ্ছাকৃত ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply