নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর লোকসভায় দেওয়া ভাষণের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, শাহের বক্তব্য তথ্যসমৃদ্ধ এবং সংসদীয় ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বুধবার লোকসভায় দেওয়া ওই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং স্পিকারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের আনা নোটিশের কড়া সমালোচনা করেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মোদি লেখেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিতভাই শাহের একটি উৎকৃষ্ট ভাষণ। তাঁর বক্তব্য তথ্যসমৃদ্ধ এবং সংসদীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বের পাশাপাশি দেশের অগ্রগতির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে।”
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, স্পিকার কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন, তিনি গোটা সদনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
তিনি বলেন, “স্পিকার পুরো সদনের অভিভাবক এবং সমস্ত সদস্যের কাছে দায়বদ্ধ। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। বিরোধীরা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর আঘাত হেনেছে।”
শাহ আরও বলেন, স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংসদের কার্যপ্রণালীকে দুর্বল করে এবং সাংবিধানিক পদগুলির উপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের রায়ই চূড়ান্ত।
বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, স্পিকারকে অপসারণের নোটিশ এনে তারা সংসদে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে এবং বিভ্রান্তিকর দাবি করছে।
তিনি বিরোধীদের এই অভিযোগও খারিজ করেন যে বিরোধী দলের নেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, সংসদ নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলে এবং সব সদস্যকেই তা মেনে চলতে হয়।
শাহ আরও বলেন, নিয়ম ভাঙলে সভাপতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে তিরস্কার করা অস্বাভাবিক নয়।
একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা শশী থারুর-সহ অভিজ্ঞ সাংসদদের সংসদীয় রীতি-নীতি মেনে চলার বিষয়ে দলের অন্যান্য নেতাদের পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবেও শাহ বলেন, সংসদের অতীত ইতিহাস বিরোধীদের দাবি সমর্থন করে না। তাঁর দাবি, লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অতীতে তিনবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল এবং প্রতিবারই ডেপুটি স্পিকার সেই অধিবেশন পরিচালনা করেছিলেন।
শাহ আরও বলেন, গত সাত দশকে লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে তিনটি অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তার কোনওটিতেই বিজেপির ভূমিকা ছিল না।

