ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন – এর রাজ্য উপদেষ্টা কমিটির  ২৯তম সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ মার্চ:
ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (টিইআরসি)-এর রাজ্য উপদেষ্টা কমিটির  ২৯তম সভা আজ আগরতলায় কমিশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন টিইআরসি-এর চেয়ারপার্সন হেমন্ত বর্মা, যিনি বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩-এর ৮৭ ধারার অধীনে গঠিত এই রাজ্য উপদেষ্টা কমিটির পদাধিকারবলে চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজ্য উপদেষ্টা কমিটি মূলত একটি পরামর্শমূলক মঞ্চ হিসেবে গঠিত হয়েছে, যাতে বিভিন্ন অংশীদাররা রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিশনকে পরামর্শ দিতে পারেন। এই কমিটি ট্যারিফ (বিদ্যুৎ শুল্ক) নির্ধারণ, উপভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা, বিদ্যুৎ সরবরাহের গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা ও মিতব্যয়িতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কমিশনকে সহায়তা করার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই কমিটিতে ত্রিপুরা সরকার, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, শিল্প ও বাণিজ্য, কৃষি, উপভোক্তা গোষ্ঠী, এনজিও, সংবাদমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পদাধিকারবলে সদস্য এবং অংশীদারদের প্রতিনিধি সহ মোট ১৮ জন সদস্য এই সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং কমিটির সামনে রাখা আলোচ্য বিষয়গুলোর ওপর তাদের মতামত প্রকাশ করেন। সভায় কমিশন ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ‘মাল্টি ইয়ার ট্যারিফ’ পিটিশন এবং রাষ্ট্রীয়, বিদ্যুৎ সংস্থা ‘ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড’ দ্বারা দাখিল করা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ‘ট্রইং-আপ’ প্রস্তাবটি কমিটির সামনে পেশ করে। মাল্টি ইয়ার ট্যারিফ কাঠামোটি কমিশনকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য শুল্ক নির্ধারণের সুযোগ করে দেয় এবং একইসাথে ‘ট্রইং-আপ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউটিলিটির প্রকৃত আর্থিক ও কার্যক্ষমতা পর্যালোচনা করার অনুমতি দেয়। ট্যারিফ নির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশীদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এই বিষয়টি রাজ্য উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা বিদ্যুৎ শুল্ক, সেবার মান এবং উপভোক্তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও মতামত প্রদান করেছেন।

কমিশন সদস্যদের আরও জানিয়েছে যে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্যারিফ আবেদনের ওপর একটি জনশুনানি আগামী ১৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে টিইআরসি -এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সাধারণ উপভোক্তা, অংশীদার এবং আগ্রহী ব্যক্তিরা বিদ্যুৎ শুল্কের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কমিশনের কাছে তাদের মতামত ও পরামর্শ সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি কমিটি ‘ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (পরামর্শদাতা নিয়োগের শর্তাবলী) প্রবিধান, ২০০৫ (প্রথম সংশোধন), ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে আলোচনা করেছে, যার লক্ষ্য হলো কারিগরি, আর্থিক এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা। এছাড়া ‘ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও সেবার শর্তাবলী) প্রবিধান, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়েও আলোচনা হয়, যা কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মীদের নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি আধুনিক ও স্পষ্ট কাঠামো তৈরি করবে।

কমিটির সদস্যরা আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন, যা কমিশনকে উপভোক্তাদের স্বার্থে এবং রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। সভার শেষে টিইআরসি -এর সদস্য পুষ্পিতা চক্রবর্তী ধন্যবাদ সূচক ভাষণ প্রদান করেন। গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে সভাটি সমাপ্ত হয়, যা ত্রিপুরার বিদ্যুৎ খাতে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং উপভোক্তা-মুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে।

Leave a Reply