কলকাতা, ৮ মার্চ: বিজেপি নাকি দেশের সংবিধানের জায়গায় নিজেদের দলীয় ইস্তাহার বসানোর চেষ্টা করছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক পদগুলিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দার্জিলিং জেলার গোসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র নির্ধারিত অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারকে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আমরা যে পরিস্থিতি দেখছি তা নজিরবিহীন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এই প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত। ‘এক দেশ, এক নেতা, এক দল’-এর উন্মাদনায় বিজেপি প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক পদকে নিজেদের জনবিরোধী উদ্দেশ্য পূরণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, বিভিন্ন জাতীয় কমিশন, একটি অংশের গণমাধ্যম এবং বিচারব্যবস্থার কিছু অংশকে ব্যবহার করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এখন নির্বাচন প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-কে ব্যবহার করে রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি কটাক্ষ করে একে “ভ্যানিশ কমিশন” বলেও উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা চায় বাবাসাহেব ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর সংবিধানের জায়গায় নিজেদের দলের ইস্তাহার বসাতে। আমি এর বিরুদ্ধে লড়েছি, এখনও লড়ব।”
তিনি আরও জানান, ধর্মতলায় তাঁর ধর্না বাংলাবিরোধী সব রাজনৈতিক পরিকল্পনার জবাব। “বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতা। আমার অগ্রাধিকার সবসময় মানুষ,” বলেন তিনি।
পোস্টের শেষদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে যেমন বাংলা উঠে দাঁড়িয়েছিল, তেমনই আবার উঠবে এবং বিজেপির পতনের পথ তৈরি করবে।”

