নয়াদিল্লি, ৬ মার্চ (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে এই ঘোষণার পর বাজারে পতনের প্রবণতা দেখা যায়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে নতুন ঘোষণার ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুডের এপ্রিল চুক্তির দাম প্রতি ব্যারেল ৮৪.২১ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল, যা আগের দিনের তুলনায় ১.৫২ শতাংশ কম। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম প্রাথমিক লেনদেনে ২.১০ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৯.৩১ ডলারে নেমে আসে।
মার্কিন অর্থ দফতরের সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, “বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য ট্রেজারি বিভাগ ৩০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় দিচ্ছে। এটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা এবং এতে রাশিয়ার সরকার উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবে না।”
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর আশপাশে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে এই ছাড় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা তেলবাহী জাহাজগুলিকে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভারত তার মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে ১০.৪ লক্ষ ব্যারেল তেল ভারতে সরবরাহ করেছে। এর পরেই রয়েছে সৌদি আরব (১০ লক্ষ ব্যারেল) এবং ইরাক (৯.৮ লক্ষ ব্যারেল)।
ভারতে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে।

