তিরুবনন্তপুরম, ৬ মার্চ (আইএএনএস): আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেরালার শাসক দল সিপিআই(এম)-এর অন্দরে বিরল ভিন্নমতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে এগোতে গিয়ে এই পরিস্থিতি মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলটির কঠোর সংগঠন শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদত্যাগ ও প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে এসেছে। এতে দলের ঐক্যের ভাবমূর্তি কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
ইতিমধ্যে দলের তিনজন প্রাক্তন বিধায়ক দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাক্তন বিধায়ক আয়েশা পোত্তি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, অন্যদিকে দেবিকুলামের প্রাক্তন বিধায়ক এস. রাজেন্দ্রন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে প্রাক্তন বিধায়ক পি.কে. শশী প্রকাশ্যে ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পালাক্কাড়ে আয়োজিত একটি বৃহৎ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি। জানা গেছে, সিপিআই(এম)-এর পাঁচটি শক্ত ঘাঁটির বিধানসভা কেন্দ্রে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে আলাপ্পুঝা জেলাতেও, যা দীর্ঘদিন ধরেই সিপিআই(এম)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানকার দুইবারের প্রাক্তন মন্ত্রী জি. সুধাকরণ দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, তাকে অপমান করা হয়েছে।
জি. সুধাকরণ তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ জানাতে সাংবাদিক বৈঠক ডাকলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে তা স্থগিত করা হয়। এই বিষয়ে পলিটব্যুরো সদস্য এম.এ. বেবি এবং রাজ্য সম্পাদক এম.ভি. গোবিন্দন সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করেন।
তবে এসব উদ্যোগের পরেও সুধাকরণ নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশায় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন শীঘ্রই আলাপ্পুঝা সফরে যাচ্ছেন। সেখানে একটি সেতু প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি সুধাকরণের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমঝোতার বার্তা দিতে দলের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে বক্তাদের তালিকায় জি. সুধাকরণের নামও রাখা হয়েছে। যদিও এতে পরিস্থিতি কতটা শান্ত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রী সি.এস. সুজাতা ইতিমধ্যেই সুধাকরণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
এর পাশাপাশি সিপিআই(এম)-এর সবচেয়ে শক্তিশালী জেলা হিসেবে পরিচিত কান্নুরেও অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে। পায়ান্নুরের বিধায়ক টি.আই. মধুসূদননের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা ভি. কুঞ্জিকৃষ্ণন তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। শহীদ তহবিল সংগ্রহের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সমর্থকদের একাংশ কুঞ্জিকৃষ্ণনকে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান, তাহলে কংগ্রেস নীরব সমর্থন দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সিপিআই(এম)-এর অন্যতম নিরাপদ আসনেও অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

