News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • অসম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশভিত্তিক চরমপন্থী নেটওয়ার্কের সন্ধান, ১১ জন গ্রেপ্তার
Image

অসম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশভিত্তিক চরমপন্থী নেটওয়ার্কের সন্ধান, ১১ জন গ্রেপ্তার

গুয়াহাটি, ৩ জানুয়ারি : অসম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশভিত্তিক এক চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধর্মীয় চরমপন্থী নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে “ঘাযওয়াতুল হিন্দ” মতবাদ প্রচার করা হচ্ছিল। এই নেটওয়ার্কের সাথে সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে, বারপেটা রোডের নিশুকা গ্রামের বাসিন্দা নাসিম উদ্দিন (তামিম) একটি ইউটিউব ভিডিও দেখতে পান, যা ইসলামিক ধার্মিক ‘মুজাদ্দিদ’ সম্পর্কে ছিল। ভিডিওটির কমেন্ট সেকশনে বাংলাদেশের একজন ব্যবহারকারী খালিদ নামে পরিচিত একজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। ওই ইউটিউব ভিডিওতে বলা হয় যে, মুজাদ্দিদ নামে একজন ধর্মীয় নেতা পৃথিবীতে উপস্থিত হয়েছেন, যিনি ইসলামী বিশ্বাস প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

খালিদ নামে ওই ব্যক্তি নাসিম উদ্দিনকে টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় বই ও “ইলহাম” (আল্লাহর বার্তা) শেয়ার করেন। পরবর্তী সময়ে, নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ “পুর্ব আকাশ” গঠন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের উমর, সুজন বিন সুলতান, শামীম বারাহ, মির রহমান ও ত্রিপুরার জগির মিয়া সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। এই গ্রুপে “ঘাযওয়াতুল হিন্দ” মতবাদ প্রচার করা হতো, যা ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুসলিমদের যুদ্ধের আহ্বান জানায়।

তদন্তকারীরা জানায়, খালিদ ও তার সহযোদ্ধারা যেসব ধর্মীয় বই ও হাদিসের উদ্ধৃতি প্রদান করছিলেন, সেগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং “ইমাম মাহমুদ” নামে এক কাল্পনিক ব্যক্তির আগমন নিয়ে প্রচারিত ছিল। তদন্তে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সমস্ত লেখা “ইমাম মাহমুদ” নামক এক চরমপন্থী সংগঠনের প্রচার ছিল, যেটি জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ এর একটি শাখা।

এই চরমপন্থী নেটওয়ার্কের সাথে জড়িতরা অসমের চিরাং, বক্সা, বারপেটা এবং দারং জেলা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. সিদ্দিক আলি, রাসিদুল আলম, মো. দিলদার রাজ্জাক, মো. যাকির হোসেন, জুনাব আলি, মিজানুর রহমান, আফরাহিন হোসেন, সুলতান মাহমুদ, শহরুখ হোসেন, মাহিবুল খান এবং নাসিম উদ্দিন (তামিম) রয়েছেন। এছাড়া, ত্রিপুরার জগির মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন যে, এই চক্রটি বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম চালাচ্ছিল, যা সংগঠনের চরমপন্থী কার্যক্রমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে সহায়ক ছিল। কিছু মসজিদে ধর্মীয় উগ্রপন্থা প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে ভারতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান জানানো হতো।

অধিকারীরা জানিয়েছেন যে, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল অসম এবং ত্রিপুরায় সহিংসতার উসকানি দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করা। আরও তদন্ত চলছে এবং এর মাধ্যমে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে।

Releated Posts

অসমের উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ বড় সংখ্যায় ভোট দেবেন: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

জালুকবাড়ি, ৯ এপ্রিল (আইএএনএস): অসম বিধানসভা নির্বাচনের দিন রাজ্যের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে বেরিয়ে আসবেন…

ByByNews Desk Apr 9, 2026

অসমে জোরদার ভোটগ্রহণ, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটদান ৭৫ শতাংশের বেশি

গুয়াহাটি, ৯ এপ্রিল (আইএএনএস): বৃহস্পতিবার অসম বিধানসভা নির্বাচনে জোরকদমে ভোটগ্রহণ চলছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রাপ্ত আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী,…

ByByNews Desk Apr 9, 2026

অসম ভোট: কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ৯ এপ্রিল (আইএএনএস): অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির প্রসিদ্ধ কামাখ্যা মন্দির-এ পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা…

ByByNews Desk Apr 9, 2026

মণিপুরে বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু, কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

ইম্ফল, ৭ এপ্রিল (আইএএনএস): মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার…

ByByNews Desk Apr 7, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top