খামেনেই হত্যাকাণ্ড ‘অনৈতিক ও বেআইনি’: ওয়াইসির তীব্র সমালোচনা

হায়দরাবাদ, ১ মার্চ (আইএএনএস): এআইএমআইএম প্রধান ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র হত্যাকাণ্ডকে “অনৈতিক ও বেআইনি” বলে আখ্যা দেন।

নিজ দলের পক্ষ থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওয়াইসি বলেন, তাঁরা খামেনেইকে তাঁদের ধর্মীয় নেতা হিসেবে মানেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরান-আক্রমণেরও তীব্র নিন্দা করেন।

ওয়াইসি বলেন, “জেনেভায় যখন ইরান-আমেরিকা আলোচনা চলছিল, সেই সময় এই হামলা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং (ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালিয়েছেন। এমনকি পবিত্র রমজান মাসের কথাও ভাবেননি।”

এআইএমআইএম নেতা দাবি করেন, জেনেভা বৈঠকে অগ্রগতি হলে ইরান হয়তো তার পারমাণবিক ভাণ্ডার ব্যবহার না করার বিষয়ে সম্মত হতে পারত।

তিনি বলেন, ইরানে হামলায় ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় ১০৮ জন কিশোরী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এই হামলা বন্ধ না হলে গোটা অঞ্চল অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়বে।”

ভারতের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করে ওয়াইসি বলেন, “বর্তমান বিজেপি সরকার যেন খামেনেই হত্যার নিন্দা করে এবং যুদ্ধ থামাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে এক কোটিরও বেশি ভারতীয় কাজ করেন—এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে।”

তিনি দাবি করেন, ওমান বন্দরে ভারতীয় শ্রমিকরা আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ওমরাহ করতে গিয়ে বহু ভারতীয় অর্থসঙ্কটে পড়ে আটকে পড়েছেন এবং বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় রয়েছেন।

যুদ্ধ চলতে থাকলে সমগ্র অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়বে বলে সতর্ক করে তিনি একে “অবৈধ যুদ্ধ” বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, ইরান কাউকে হুমকি দেয়নি; বরং তাকে চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওয়াইসি আরও বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যেভাবে ইরানে শাসন পরিবর্তনের আশা করছেন, তা বাস্তবে সম্ভব নয়। তিনি ইজরায়েল ও পাকিস্তানের তুলনা টেনে বলেন, উভয় দেশই নিজেদের প্রতিবেশীদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ৭০ হাজার প্যালেস্টিনীয়দের গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি এবং ইজরায়েল সরকারকে “গণহত্যাকারী শাসন” বলে কটাক্ষ করেন।

Leave a Reply