পাটনা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ধরা পড়ায় পাটনায় প্রায় ৬ হাজার মুরগি নিধন করা হয়েছে। পশুপালন দফতরের পরীক্ষায় পোলট্রির পাখিগুলির দেহে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর সংলগ্ন চিতকোহরা এলাকার কৌশল নগরে অবস্থিত বিহার প্রাণী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে সংক্রমিত পাখিগুলি পাওয়া যায়। পরীক্ষাগারে রিপোর্টে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দফতর অবিলম্বে কেন্দ্রটির সমস্ত মুরগি নিধন ও মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর পুরো এলাকায় স্যানিটাইজেশন চালানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাটনার জেলা শাসকের নির্দেশে পৌরসীমার মধ্যে মুরগি ও মোরগের আনা-নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সংক্রমিত খামারকে কেন্দ্র করে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধকে ‘সংক্রমণ অঞ্চল’ এবং নয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধকে ‘নজরদারি অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই এলাকায় ডিম, পোলট্রি পাখি ও খাদ্যসামগ্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যথাযথ স্যানিটাইজেশন শংসাপত্র না থাকলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
বিমানবন্দর সংলগ্ন চিতকোহরা সেতুর আশপাশে ঘন জনবসতি থাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কৌশল নগরে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং শাস্ত্রী নগর ও বাইপাস থানার পুলিশকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছেন। মাস্ক ছাড়া পোলট্রি ফার্ম এলাকায় প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সঞ্জয় গান্ধী জয়ভিক উদ্যান কর্তৃপক্ষও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। দর্শনার্থীদের ময়ূর ও অন্যান্য পাখি ন্যূনতম আট ফুট দূরত্ব থেকে দেখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পাখির খাঁচার আশপাশে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে, প্রবেশদ্বারে রাসায়নিক জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কর্মীদের মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত চত্বরে বার্ড ফ্লুর কোনও ঘটনা ধরা পড়েনি।
সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত ও সংলগ্ন এলাকায় দুই মাসের জন্য পোলট্রি চাষে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংক্রমণ অঞ্চলের আশপাশে মানুষের চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

