News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • বালোচ নেতাদের কারাবন্দি রাখতে ‘আইনি কারসাজি’র অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনের
Image

বালোচ নেতাদের কারাবন্দি রাখতে ‘আইনি কারসাজি’র অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনের

কোয়েটা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): মানবাধিকার সংগঠন বালুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি) অভিযোগ করেছে, তাদের প্রধান সংগঠক মাহরাং বালুচ-সহ অন্যান্য নেতাদের কারাবন্দি রাখতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে “আইনি ও প্রক্রিয়াগত কারসাজি” করছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, প্রথমে জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইন (৩-এমপিও) অনুযায়ী তিন মাসের জন্য তাদের আটক করা হয়। এই আইনে সরকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে “সম্ভাব্য জনশৃঙ্খলা হুমকি” দেখিয়ে প্রতিরোধমূলক আটক রাখা যায়।

বিওয়াইসি-র দাবি, ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মুক্তি না দিয়ে কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআর” দায়ের করে তাদের কারাবাস অব্যাহত রাখে।

সংগঠনটি জানায়, অনেক মামলাই আইনত জামিনযোগ্য হলেও, বারবার শারীরিক রিমান্ড, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব এবং ইচ্ছাকৃত প্রক্রিয়াগত জটিলতার মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিচার নয়, বরং আটক দীর্ঘায়িত করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একাধিক মামলায় তদন্ত সম্পন্ন হয়ে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র (চালান) জমা দেওয়া হয়েছে। তবুও কিছু আদালতে জামিন নাকচ বা বিলম্বিত হওয়ায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের কারাবাস অব্যাহত রয়েছে।

বিওয়াইসি দাবি করে, তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল কারণ বেলুচিস্তানে গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলন।

২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিওয়াইসি নেতাদের জামিন আবেদন শুনানি হয়। উভয় পক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় সংরক্ষণ করেন। সংগঠনের অভিযোগ, গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রসিকিউশন মাহরাং বালোচ বা অন্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

তবে প্রায় তিন মাস পর ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে জানায় যে প্রাথমিকভাবে উপাদান (প্রাইমা ফেসি ম্যাটেরিয়াল) রয়েছে এবং মামলাটি বিচারের জন্য এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বিওয়াইসি প্রশ্ন তোলে, যদি শেষ পর্যন্ত জামিন নামঞ্জুর করে বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়, তবে তিন মাস রায় সংরক্ষণ করে রাখা হলো কেন?

সংগঠনটির মতে, জামিন সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিলম্বের গুরুতর প্রভাব রয়েছে। এতে আটক দীর্ঘায়িত হয়, অনিশ্চয়তা বাড়ে এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া স্বাধীন ও প্রভাবমুক্তভাবে চলছে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়।

বিবৃতিতে পুনরায় উল্লেখ করা হয়, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। সাংবিধানিক দাবি তোলা এবং গুমের বিরুদ্ধে কথা বলা অপরাধ নয়। প্রক্রিয়াগত বিলম্বের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নেতাদের কারাবন্দি রাখা দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর নিয়ে উদ্বেগজনক বার্তা দেয়, বলে দাবি সংগঠনটির।

Releated Posts

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ‘সুখবর’-এর ইঙ্গিত রুবিওর, মার্কিন-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির দাবি

নয়াদিল্লি, ২৪ মে (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন…

ByByNews Desk May 24, 2026

নজরদারি এড়াতে এআই ব্যবহারে সতর্কতার পাঠ দিচ্ছে ইসলামিক স্টেট

নয়াদিল্লি, ২৩ মে (আইএএনএস) : প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বরাবরই নিজেদের অত্যন্ত সক্রিয় হিসেবে তুলে…

ByByTaniya Chakraborty May 23, 2026

চীনের কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ৮২; এখনও আটকে ৯ শ্রমিক

তাইইউয়ান, ২৩ মে (আইএএনএস) : উত্তর চীনের শানসি প্রদেশে ভয়াবহ কয়লাখনি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২-তে পৌঁছেছে। এখনও…

ByByTaniya Chakraborty May 23, 2026

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা বন্ধের আর্জি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তসলিমা নাসরিনের খোলা চিঠি

ঢাকা, ২৩ মে (আইএএনএস) : বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা, জমি দখল এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের ঘটনায় গভীর…

ByByTaniya Chakraborty May 23, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top