News Flash

  • Home
  • দেশ
  • মারিনা সৈকতে ব্লু ফ্ল্যাগ সম্প্রসারণ ও রোপ কার প্রকল্পের বিরুদ্ধে ২ মার্চ মানববন্ধনে নামছেন চেন্নাইয়ের মৎস্যজীবীরা
Image

মারিনা সৈকতে ব্লু ফ্ল্যাগ সম্প্রসারণ ও রোপ কার প্রকল্পের বিরুদ্ধে ২ মার্চ মানববন্ধনে নামছেন চেন্নাইয়ের মৎস্যজীবীরা

চেন্নাই, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : চেন্নাই উপকূলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। চেন্নাই-এর ট্রিপলিকেনের আয়োধ্যা কুপ্পম থেকে সানথোমের শ্রীনিবাসপুরম পর্যন্ত ১২টি মৎস্যজীবী গ্রাম ২ মার্চ সন্ধ্যায় বৃহৎ মানববন্ধন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আন্দোলনের লক্ষ্য রাজ্য সরকারের কাছে মারিনা সৈকতে ব্লু ফ্ল্যাগ বিচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাতিল এবং বালুচরে প্রস্তাবিত রোপ কার প্রকল্প বন্ধের দাবি জানানো।

মৎস্যজীবী নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আয়োধ্যা কুপ্পম, মাট্টানকুপ্পম, নোচিকুপ্পম এবং শ্রীনিবাসপুরমের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে “গুরুতর জীবিকা সংকট” হিসেবে চিহ্নিত করে বৈঠক করেছেন। ব্লু ফ্ল্যাগ প্রকল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি মারিনা লুপ রোড ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় দোকান উচ্ছেদের প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করছে মৎস্যজীবী সমাজ।

প্রতিবাদীদের দাবি, তারা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নন। তবে পর্যটন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ যেন ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার অধিকার, বিক্রির স্থান এবং সমুদ্রতীরে প্রবেশাধিকারের ক্ষতি না করে। পরবর্তী কাজ শুরুর আগে প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

আয়োধ্যা কুপ্পমের এক মৎস্যজীবী সেলভারাজ জানান, প্রকল্পের আগের পর্যায়েই তারা বহু ছাড় দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ব্লু ফ্ল্যাগ প্রস্তাব প্রথম এলে আমরা জায়গা ছেড়ে নৌকা সরিয়ে নিয়েছিলাম। পরে বাকি অল্প জায়গাতেও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। আমাদের চাপে তা সরানো হয়। এখানে আমাদের ৩০টি নৌকা ও ১০টি ক্যাটামারান আছে। নিকাশিজল ও আবর্জনার কারণে উপকূলে মাছ ধরা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত। এখন নৌকা রাখার জায়গাও কমে যাচ্ছে।”

বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ব্লু ফ্ল্যাগ প্রকল্প আরও বাড়লে মৎস্যজীবী পরিবারগুলো সম্পূর্ণভাবে সৈকত থেকে বিতাড়িত হতে পারে। সম্প্রদায়ের সদস্যদের দাবি, ঐতিহ্যগতভাবে নৌকা নোঙর করা ও জাল শুকানোর জন্য ব্যবহৃত স্থান ক্রমশ সীমিত করা হচ্ছে।

এদিকে সৈকতসংলগ্ন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। এক মহিলা বিক্রেতা জানান, মারিনা ও লুপ রোডের ধারে থাকা খাবারের দোকান ও ছোট ব্যবসার ওপর প্রায় ২,০০০ পরিবার নির্ভরশীল। তাঁর প্রশ্ন, “মাত্র ৩০০টি দোকানের অনুমতি দিলে বাকিদের কী হবে? সরকার বিকল্প জায়গা বা জীবিকার ব্যবস্থা করলে আমরা ভাবতে পারি। না হলে এটি আমাদের কাছে বাঁচা-মরার প্রশ্ন।”

সম্প্রদায় নেতা কে. ভারতী অভিযোগ করেন, প্রশাসন একতরফাভাবে নিয়ম প্রয়োগ করছে। তাঁর দাবি, মৎস্যজীবীদের অস্থায়ী ছাউনি তুলে জাল মেরামত করতে বাধা দেওয়া হলেও, একই বালুচরে বাঁশের বেড়া, কেবানা, চেঞ্জিং রুম, শৌচালয় এমনকি রোপ কার নির্মাণের কাজ চলছে।

মৎস্যজীবীরা সরকারের কাছে অবিলম্বে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, জীবিকার সুরক্ষা ছাড়া উন্নয়ন এগোলে চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী উপকূলীয় সম্প্রদায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Releated Posts

দফতর বণ্টন ঘোষণা, স্বরাষ্ট্র নিজের হাতেই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী; অর্থ দফতর পেলেন স্বপন দাশগুপ্ত

কলকাতা, ১০ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বুধবার নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দফতর বণ্টনের চূড়ান্ত…

ByByNews Desk Jun 10, 2026

মীনাক্ষী নটরাজনের রাজ্যসভা মনোনয়ন বাতিল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারদের নিশানায় কংগ্রেস

নয়াদিল্লি, ১০ জুন (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশ থেকে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে…

ByByNews Desk Jun 10, 2026

যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ও পরামর্শদাতাদের পুনর্নিয়োগ পর্যালোচনায় তামিলনাড়ু সরকার

চেন্নাই, ১০ জুন (আইএএনএস): সরকারি ব্যয় কমানো এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দফতরে চুক্তিভিত্তিক বা…

ByByNews Desk Jun 10, 2026

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যেও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেই, দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরীর

নয়াদিল্লি, ১০ জুন (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও ভারত পরিস্থিতি…

ByByNews Desk Jun 10, 2026
Scroll to Top