কংগ্রেস সরকার বানজারা সম্প্রদায়কে টার্গেট করছে: কর্ণাটক বিজেপি সভাপতি বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র

বেঙ্গালুরু, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কর্ণাটকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বানজারা সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কর্ণাটক বিজেপি সভাপতি ও বিধায়ক বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্র। সোমবার তিনি বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রু লামানি-র গ্রেফতার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।

বিজয়েন্দ্র দাবি করেন, বানজারা সম্প্রদায় বিজেপির পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল—এই বিষয়টি কংগ্রেস সরকার মেনে নিতে পারছে না। তাঁর অভিযোগ, সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ওই সম্প্রদায় অবিচার ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি উপমুখ্যমন্ত্রী একটি বানজারা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে কয়েকজন যুবক প্রতিবাদ ও ঘেরাও করেন। তাঁদের অভিযোগ শোনার বদলে উপমুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে প্রতিবাদী যুবকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন বলে দাবি বিজয়েন্দ্রর। তাঁর অভিযোগ, এরপর থেকেই কংগ্রেস সরকার পরিকল্পিতভাবে ওই সম্প্রদায়কে নিশানা করছে। তবে তিনি জানান, বিধায়ক লামানি আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হবেন এবং আদালতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। ইতিমধ্যে কিছু অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি, যার সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, শিরাহাট্টি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রু লামানিকে গত শনিবার কর্ণাটক লোকায়ুক্তা গ্রেফতার করে। গদগ জেলার লক্ষ্মেশ্বর শহরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অভিযোগ, একটি ক্ষুদ্র সেচ দফতরের কাজের বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ১১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহণের সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে লোকায়ুক্তা দল। তাঁর সরকারি ব্যক্তিগত সহকারী মঞ্জুনাথ ভাল্মিকি এবং ব্যক্তিগত সহকারী গুরু লামানিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগকারী ঠিকাদারের নাম বিজয় পূজার।

আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশন নিয়েও মন্তব্য করেন বিজয়েন্দ্র। তিনি জানান, বিরোধী দলনেতা আর. অশোকের সঙ্গে আলোচনা করে বিধানসভায় দলের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক আলোচনার পর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের দুর্নীতি সংক্রান্ত মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের নৈতিক অধিকার আছে কি না অন্যদের সমালোচনা করার। তিনি ‘ভাল্মিকি কর্পোরেশন কেলেঙ্কারি’ ও ‘মুডা কেলেঙ্কারি’র প্রসঙ্গ তুলে তদন্তের দাবি জানান। তবে দুর্নীতিকে জাতিগত রং না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘জাতিগত কার্ড’ খেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজয়েন্দ্র বলেন, সিদ্ধারামাইয়া বিজেপির প্রতি নয়, বরং নিজের দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশুপালক সম্প্রদায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া গর্বের বিষয় হলেও, আসন্ন বাজেটে অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়ন কর্পোরেশনগুলির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিতে বিজেপি জোরালো চাপ সৃষ্টি করবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply