News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • বিদ্যুৎ বিল শূন্য, উল্টো আয়, চলতি কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭৪০ জন গ্রাহকের রোজগার
Image

বিদ্যুৎ বিল শূন্য, উল্টো আয়, চলতি কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭৪০ জন গ্রাহকের রোজগার

আগরতলা, ২৮ জানুয়ারি: বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন কার্যত অতীতের পাতায়। ঘরের ছাদ, টিনের চাল কিংবা বাড়ির উঠোন থেকেই এখন শুধু বিদ্যুৎ নয়, আসছে আয়ের সুযোগও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা ত্রিপুরায় যে শুধু জনপ্রিয় হচ্ছে তা নয়, বাস্তব জীবনে আর্থিক স্বস্তির দৃষ্টান্তও তৈরি করছে।

ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি কোয়ার্টারে রাজ্যের মোট ৭৪০ জন বিদ্যুৎ গ্রাহক নিজেদের বাড়িতে সৌর প্যানেল বসিয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল শূন্য করেননি, বরং বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা নিগমের কাছে বিক্রি করে রোজগারও করেছেন। গত তিন মাসে এই গ্রাহকদের এক টাকাও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়নি।

উল্টো বুধবার ৭৪০ জন বিদ্যুৎ ভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৩১ টাকা ৯৪ পয়সা পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ নিগম। বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু জানান, এই প্রকল্পের মূল শক্তি এখানেই—বিদ্যুৎ আর শুধু খরচের বিষয় নয়, এটি এখন আয়ের মাধ্যম। যারা নিজেদের চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন, তারা সরাসরি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে অর্থ পাচ্ছেন। রাজ্যের একাংশ মানুষ যখন এখনও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চিন্তিত, তখন এই ৭৪০ জন গ্রাহক এই প্রকল্পে যুক্ত হয়ে উল্টো লাভের মুখ দেখছেন।

এই সাফল্যকে বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্ষেত্রের এক নিঃশব্দ বিপ্লব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথও একাধিকবার স্পষ্ট করে বলেছেন, কয়লা ও গ্যাসের মতো প্রথাগত শক্তি উৎস একদিন শেষ হবে। ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প শক্তির দিকেই তাকাতে হবে, আর সূর্য শক্তিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হয়ে উঠতে পারবে এবং বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে।

ত্রিপুরা সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যের ৫০ হাজার পরিবারকে পি.এম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার আওতায় আনা। বাড়ির ছাদ, টিনের চাল কিংবা মাটির ওপর পাটাতন তৈরি করে সহজেই সৌর প্যানেল বসানো যাবে। এতে একদিকে নিজের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয়ের পথ খুলবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত চলবে এই প্রকল্প। সরকার ব্যয় করবে ৭৫,০২১ কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় ভর্তুকিও। প্রথম ২ কিলোওয়াট সোলার প্যানেলের জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ৩৩ হাজার টাকা, পরবর্তী ১ কিলোওয়াটের জন্য ১৯,৮০০ টাকা ভর্তুকি মিলবে। ফলে ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮৫,৮০০ টাকা ভর্তুকি পাওয়া সম্ভব। বিদ্যুৎ বিল থেকে মুক্তি আর বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয়—এই দুইয়ের মিলনেই পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা ত্রিপুরায় নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে।

Releated Posts

দীর্ঘদিনের দাবির পর চন্দ্রপুর গর্জনটিলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু

আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে উদয়পুরের চন্দ্রপুর গর্জন টিলা এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হতে…

ByByReshmi Debnath Sep 23, 2026

থানা থেকে কয়েকশো মিটার দূরে জুয়ার আসর! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: পূর্ব আগরতলা থানার অদূরে মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়…

ByByReshmi Debnath Sep 23, 2026

শারদ উৎসবের আগে যানজট নিয়ন্ত্রণে মহারাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ট্রাফিক দপ্তরের বৈঠক

আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: আসন্ন দুর্গাপূজা ও সামগ্রিকভাবে শহরের যান চলাচল ব্যবস্থা আরও সুষ্ঠু করতে নতুন উদ্যোগ নিল আগরতলা…

ByByTaniya Chakraborty Sep 23, 2026

এক বছর ধরে বিকল ট্রান্সফরমার, সোনামুড়া-কাঠালিয়া সড়ক অবরোধ এলাকাবাসীর

সোনামুড়া, ২৩ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে থাকার অভিযোগে সোনামুড়া-কাঠালিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন…

ByByReshmi Debnath Sep 23, 2026
Scroll to Top