আগরতলা, ২৫ জানুয়ারি: মহাত্মা গান্ধীর নামে প্রণীত এমজিএনরেগা প্রকল্পকে কার্যত বাতিল করে নতুন মোড়কে গ্রামীণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “আরও বেশি দিনের কাজ, বেশি মজুরি ও বেশি অর্থ বরাদ্দ”—এই প্রতিশ্রুতির বন্যায় সরকারি অর্থ ও আইটি সেল–সহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে গোটা দেশ ও রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
আশীষ সাহা বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলে এমজিএনরেগায় কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও বর্তমান অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৩৭ শতাংশে। ২০১৪ সালের পর দেশজুড়ে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি জব কার্ড ডিজিটালাইজেশন, আধার লিংক ও ব্যাংক কেওয়াইসি–র অজুহাতে বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ত্রিপুরায় প্রায় ৯ লক্ষ জব কার্ড রয়েছে। ফলে কাজের গড় দিন দেশে ৪৫–৪৬ থেকে নেমে এসেছে, রাজ্যে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২–৩৩ দিনে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১১ বছরে জব কার্ডধারীদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ১০০ দিনের কাজ পেয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। কাজের জায়গায় না গিয়েও মজুরি তোলার অভিযোগও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশ ও রাজ্যে কোটি কোটি টাকা মজুরি বকেয়া পড়ে রয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সোশ্যাল অডিট রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলেন, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন বছরে ত্রিপুরার এমজিএনরেগা প্রকল্পে শত শত কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই তথ্য আড়াল করতেই সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে প্রকল্পের আইনি অধিকার তুলে দিতে চাইছে, যাতে অর্থের বড় অংশ ঠিকাদার ও শাসকদলের একাংশের হাতে চলে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আশীষ কুমার সাহা আরো বলেন, এমজিএনরেগা শুধু একটি প্রকল্প নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এই প্রকল্পকে দুর্বল করা মানে গরিব মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা। কংগ্রেস দল এই নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন জারি রাখবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

