News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • গ্রামীণ ব্যাঙ্কের তালবাহানায় খোয়াইয়ে পোশাক অনুদান প্রাপ্তিতে হয়রানির শিকার ছাত্রছাত্রীরা
Image

গ্রামীণ ব্যাঙ্কের তালবাহানায় খোয়াইয়ে পোশাক অনুদান প্রাপ্তিতে হয়রানির শিকার ছাত্রছাত্রীরা

EDUCATIONনিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ৪ জানুয়ারী৷৷ একসময় ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বন্ধ হওয়ার পথে ছিল৷ এই দুর্দশার মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এগিয়ে এসে জনগনের এবং সরকারী কর্মচারীদের কাছে আবেদন রাখেন গ্রামীন ব্যাঙ্ককে বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানে শ্রমিক-কৃষক সহ সমস্ত অংশের মানুষের এগিয়ে আসার কারনেই ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে৷ কিন্ত বর্তমানে একাংশ ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের অসহযোগিতার মনোভাবের ফলে একসময় ব্যাঙ্কের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষ থেকে সরকারী কর্মচারীদের নাজেহাল হতে হচ্ছে৷ অথচ সারা রাজ্যেই শিক্ষক – কর্মচারীগন নিজেদের বেতন সংক্রান্ত কারনে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের গ্রাহক৷ তবে ক’জন স্ব -ইচ্ছায় এবং ক’জন ব্যধ্যতামূলক তানিয়ে প্রশ্ণ থাকতেই পারে৷ কারণ খোয়াইতে গ্রামীন ব্যাঙ্কের দুটি শাখা যথাক্রমে খোয়াই শাখা এভং অফিসটিলা শাখা গ্রাহক পরিসেবার বিষয়ে অনেক অভিযোগের মুখে৷ ইতিমধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে গেছে৷ এখন নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্ত্তি পর্ব চলছে৷ সেই সাথে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের পোষাক তৈরির জন্য ড্রেস গ্র্যান্ট এর টাকাও প্রতিটি সুকলের এসএমসি একাউন্টে ঢুকে গেছে৷ এখন শুধুমাত্র সুকলের একাউন্ট থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকের একাউন্টে সেই ড্রেস গ্র্যান্টের টাকা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ট্রান্সফার হওয়া বাকি৷ কিন্তু তাতেই যত সমস্যা৷ প্রায় সব সুকলগুলির প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুয়ারী যখন ছাত্র-ছাত্রীদের বা তাদের অভিভাবকদের প্রদত্ত একাউন্ট তালিকা এবং সাথে চেক দিচ্ছেন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এর খোয়াই শাখার কর্মচারীদের হাতে তখন শিক্ষকদের এই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, একাউন্টের তালিকা দিলে চলবে না বরং এর হার্ড কপি বা ডাটা ফাইল তৈরী করে পেন ড্রাইভে করে নিয়ে আসতে হবে৷ গ্রামীন ব্যাঙ্কের এহেন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সুকলের শিক্ষকদের৷ এতে তো এসবি বা প্রাইমারী সুকলগুলিতে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ৷ স্বভাবতই নেই কম্পিউটার৷ প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষকদের কাছে পেন ড্রাইভ থাকাটাও কতটুকু যুক্তিসঙ্গত আবদার তাতেও প্রশ্ণ চিহ্ণ থেকে যাচ্ছে৷ তার মধ্যে এবিষয়ে নেই আগাম কোন নির্দেশিকা শিক্ষা দপ্তর থেকে পাওয়া যায়নি বা শিক্ষা দপ্তরের কাছেও যে গ্রামীন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এমন তথ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ স্বভাবতই প্রশ্ণ উঠছে দেশের কোন ব্যাঙ্ক কি কখনো গ্রাহকদের কাছে ডাটা ফাইল চেয়ে একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে বলেছে বলে নিদর্শন রয়েছে? যদি এটা শুধুমার সুকলের বলেই গ্রামীন ব্যাঙ্ক খোয়াই শাখা কর্তৃপক্ষ বলে থাকে তৈরী করে ব্যাঙ্কে যদি দিত তবে হয়তো সেটা পদ্ধতিগত দিক থেকে গ্রহনযোগ্য হতো বলেও মনে করছেন শিক্ষকরা৷ তবে এখন প্রশ্ণ উঠছে, ব্যাঙ্কের এই অনায্য দাবি মানতে গেলে প্রতিটি সুকলে একটি করে পেন ড্রাইভ ক্রয় করতে হবে এবং সুকলের ছাত্র-ছাত্রীদের বা তাদের অভিভাবকদের একাউন্ট নম্বরে তালিকা নিয়ে ছুটতে হবে কোন কম্পিউটারের দোকানে৷ সেখানে বসে মাস্টার ফাইল তৈরী করে পেন ড্রাইভে করে নিয়ে এসে দিতে হবে ব্যাঙ্ককে৷ তবেই সুকলের ছাত্র-ছাত্রীরা ড্রেস গ্র্যান্টের টাকা পাবে নতুবা পাবে না৷ অনেক সুকল কর্তৃপক্ষকেই দেখা গেল কোন প্রতিবাদ না করেই ব্যাঙ্কের অনায্য দাবি মেনে পেন ড্রাইভ ক্রয় করে ডাটা ফাইল তৈরী করিয়ে ব্যাঙ্ককে দিয়ে আসছেন৷ কারণ অযথা কোন ঝামেলা উনারা চান না৷ প্রয়োজনে পেন ড্রাইভের টাকাটা সুকল গ্র্যান্ট বা ম্যান্টিন্যান্স গ্র্যান্ট থেকে মেনেজ করে নেবেন৷ কিন্তু এই উদ্ভুত সমস্যার এটাই কি একমাত্র সমাধান?
এখানেই শেষ নয়৷ গ্রামীন ব্যাঙ্কের অপর একটি শাখা অফিসটিলায় রয়েছে৷ কিন্তু অবাক করার বিষয় হল খোয়াই ব্লক এলাকার অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীগণই এই শাখার গ্রাহক হলেও ব্যাঙ্কের পরিধি এতটাই কম যে প্রতিদিনই স্বল্প জায়গায় কারনে গ্রাহকদের হয়রান হতে হয়৷ ব্যাঙ্কে শুধু সাধারন গ্রাহকরাই নন, শিক্ষক-কর্মচারী থেকে রেগা কর্মচারীদেরও প্যমেন্ট হয়৷ এছাড়া মাসের প্রথম সপ্তাহে যেখানে সরকারী কর্মচারীগণ বেতন তুলতে আসেন তখন দেখা যায় ভীড় যতক্ষন পর্যন্ত না ব্যাঙ্কের মূল ফাটক পার হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত একটি মাত্র কাউন্টারে জমা এবং তোলা দুই ধরনেরই লেনদেন হয়৷ তাছাড়া লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে মহিলা গ্রাহকদের খুব অস্বস্তিতে পড়তে হয়৷ কারন প্যামেন্ট নেওয়ার জন্য যদি ১০ জনেরও লাইন হয় তবেই চলাফেরার রাস্তা থাকেনা ত্রিপুরা গ্রামীন ব্যাঙ্ক অফিসটিলা শাখায়৷ নারী-পুরুষ উভয়কেই বড্ড অস্বস্তির মধ্যে ব্যাঙ্কে লেনদেন প্রক্রিয়া সাড়তে হয়৷ এবিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন৷ ব্যাঙ্কের পরিধি বৃদ্ধিতে বছরের পর বছর ধরে নেই কোন উদ্যোগ৷ এছাড়া গ্রামীন ব্যাঙ্কের অফিসটিলা শাখায় প্রতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত পাসবুক আপডেট করা হয়না৷ এরপর থেকে মাসের শেষ অবধি কখনো প্রিন্টিং মেশিন অকেজো তো কখনো প্রিন্টিং মেশিনে যান্ত্রিক কোন গোলযোগ৷ একজন গ্রহক কতবার ব্যাঙ্কে ঘুরঘুর করতে হয় শুধুমাত্র পাসবুক আপডেট করতে তার কোন হিসেব নেই৷ সেই সাথে সারা রাজ্যের ন্যায় খোয়াইতেও ২০০০ টাকার নোট ব্যতিত মিলছে না খুচরো টাকা৷ যদিও সরকারী কর্মচারীগণ জানুয়ারী মাসে যতসামান্য খুচরো পেয়েছেন ব্যাঙ্ক থেকে কিন্তু এছাড়া সাধারন গ্রাহকরা মাসের অন্যান্য দিনগুলিতে খুচরোর মুখ দেখেন না ব্যাঙ্কে গিয়ে৷ তবে সব মিলিয়ে ত্রিপুরা গ্রামীন ব্যাঙ্কের খোয়াই এবং অফিসটিলা শাখায় গ্রাহকরা প্রচন্ড হয়রানির স্বীকারই হচ্ছেন৷ এনিয়ে সবার মধ্যেই ক্ষোভ বিরাজ করছে৷

Releated Posts

এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের, নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি

আগরতলা, ২৬ জুন: বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল…

ByByReshmi Debnath Jun 27, 2026

কোর্ট ম্যারেজের পর দাম্পত্য কলহ, তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুন: রাজধানীর বাধারঘাট এলাকার এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত তরুণীর…

ByByReshmi Debnath Jun 13, 2026

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026
Scroll to Top