আগরতলা, ২১ নভেম্বর: মেলাঘরের বানিয়াছড়া এলাকার প্রবীণ কৃষক লতিফ মিয়া আজও কৃষি কাজে ব্যবহার করেন লাঙ্গল-জুয়াল ও গরুর শক্তি। আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগেও তাঁর এই পুরনো পদ্ধতিতে অটল থাকা অনেকের কাছেই বিরল দৃশ্য।
শুক্রবার সকালেই কাঠালিয়া মোটর স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে নাঙ্গল কাঁধে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন লতিফ মিয়া। অচিরেই পথচারীদের দৃষ্টি তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়। আধুনিকতার দৌড়ে যখন কৃষিকাজে ট্রাক্টর, পাওয়ার-টিলার ইত্যাদি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়েছে, তখন কাঁধে নাঙ্গল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রবীণ কৃষককে দেখে অনেকেই অবাক হন। কিছু লোক হাসাহাসি করলেও, লতিফ মিয়া হাসিমুখেই সব গ্রহণ করেন।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,“যন্ত্রে চাষ করতে গেলে অনেক খরচ। কিন্তু লাঙ্গল দিয়ে জমি প্রস্তুত করলে খরচ কম, ওপরন্তু এর আলাদা বৈশিষ্ট্য ও গুণ আছে।”
বানিয়াছড়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফ মিয়া জানান, তাঁর প্রায় চার বিঘে কৃষিজমি রয়েছে। ধানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সবজিও চাষ করেন, যা দিয়ে পরিবারের সংসার চলে। তাঁর মতে, উঁচু-নিচু জমি লাঙ্গল দিয়ে চাষ করা সুবিধাজনক। হালের গরু থাকায় জমি প্রস্তুত করতে আলাদা খরচও হয় না।
তিনি আরও জানান, নিজস্ব নাঙ্গলটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাঠালিয়ার বাটাখলা গ্রাম থেকে একটি পুরোনো নাঙ্গল সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
লাঙ্গল কাঁধে প্রবীণ কৃষকের এই দৃশ্য দেখেই মোটর স্ট্যান্ড এলাকায় অনেকের কৌতূহল বাড়ে। আধুনিকতার যুগেও ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজের প্রতি তাঁর অনুরাগ ও নিষ্ঠা দেখে অনেকেই প্রশংসা করেন। বানিয়াছড়া গ্রামের এই কৃষক যেন আজও প্রমাণ করে দিচ্ছেন— যন্ত্র আধুনিক হতে পারে, কিন্তু কৃষকের মাটির টান কখনো পুরোনো হয় না।

