আগরতলা, ১৭ নভেম্বর: আগরতলার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পেইন ফর হিউম্যানিটি প্রোটেকশন (সিএইচপি)-এর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। মানবাধিকারকেন্দ্রিক এই সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির পুনর্গঠন করা হয়। মানবিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন—সংগঠনের এই তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নেতৃত্বরা জানান, ১৭ নভেম্বর ২০২২ সালে ত্রিপুরার আগরতলায় মানবাধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে সিএইচপি গঠিত হয়। সংগঠনের উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও উৎসাহ প্রদান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার ও স্বার্থরক্ষা, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নসাধনে কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সংগঠনের আদর্শ প্রচারে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশ, সেমিনার, কর্মশালা, সম্মেলন, প্রশিক্ষণ ও সমাবেশের আয়োজন, নিপীড়িতদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে এখনো নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে অচিরেই আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে এদিন জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্বের বহু দেশে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আজ বিলুপ্তির হুমকির মুখে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার পান না। যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য এবং আইনের শাসনের অভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। যদিও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করছে, তবুও বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবনের অধিকারের মতো মৌলিক অধিকার অনেক দেশেই ঝুঁকির মুখে আছে।
ত্রিপুরাসহ ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে মিশ্র চিত্র উপস্থাপন করে। কোথাও উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তবে ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের মাধ্যমে জনজাতিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমি-অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে বলে সম্মেলনে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতিরও উল্লেখ করা হয়। সমগ্র সম্মেলনে মানবাধিকারের সার্বিক সুরক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয় এদিন।

