নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ ডিসেম্বর৷৷ নোট বাতিলের জেরে তৈরী হওয়া সঙ্কট মোচনে সঠিক কোন সুরাহা দেখাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ একই সাথে কালো টাকার প্রসঙ্গও অনেকটাই এড়িয়ে গেলেন তিনি৷ নতুন বছরের প্রাক সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কালো টাকার প্রসঙ্গে যেমন চুপ ছিলেন, তেমনি নোট বাতিলের জেরে তৈরী হওয়া সঙ্কট কবে নাগাদ মিটবে সেই বিষয়েও নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি৷ ফলে, নোট বাতিলের ৫০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার টিভির পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেশবাসী কিছুটা হলেও হতাশ হয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে৷ অবশ্য, একপ্রকার বাজেটের ঢংয়ে দেশবাসীর কল্যাণে গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাতে দেশের ক্ষুদ্র অংশ উপকৃত হবেন বলেও ধারণা করা যাচ্ছে৷
এদিন প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে গত ৫০ দিনে দেশবাসী যে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়েছেন তার জন্য সকলকে কুর্নিশ জানিয়েছেন৷ তবে, দেশবাসী থেকে শুরু করে প্রত্যেক বিরোধী দলের মূল প্রশ্ণ কালো টাকা কি পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে সেই বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে কিছুই ছিল না৷ পাশাপাশি নোট সঙ্কট স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে, সেকথা প্রধানমন্ত্রী জানালেও কবে নাগাদ নগদ নোটের সঙ্কট মিটবে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি৷ এনিয়ে সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিজন ধর বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর বত্তৃণতায় কোন দিশাই দেখাতে পারলেন না৷ বরং প্রাক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আরও বিশদে প্রতিফলিত হয়েছে৷ এদিন শ্রীধর প্রশ্ণ তুলে বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্ম সংস্থান এই মূল বিষয়গুলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসেনি৷ তিনি ধারণা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে কর্ম সংস্থান নিয়ে বিরাট কিছু ঘোষণা করবেন৷ পাশাপাশি জিনিষের দাম কমবে, সেই বিষয়েও দিশা দেখাবেন৷ অনেকটা আশ্চর্য্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত ৫০ দিনে কি পরিমাণ কালো টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেই বিষয়ে দেশ কিছুই জানতে পারল না৷ বরং সাধারণ বাজেটের আগেই বাজেটের ঢংয়ে গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করলেন৷ বিজনবাবুর প্রধানমন্ত্রীর এই প্রক্রিয়াকে মারাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন৷ এনিয়ে তাঁর প্রশ্ণ, আজ যে প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আদৌ কোন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে কি না৷ এদিন বিজনবাবু স্পষ্ট বলেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন৷
এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে রাখা বক্তব্যকে অন্তঃসার শূন্য বলে কটাক্ষ করেছেন৷ তাঁর মতে, কেবল ইউপিএ আমলে যে সমস্ত প্রকল্পগুলি রূপায়িত হয়েছিল সেগুলির নাম পাল্টে তাতে নতুন সংযোজন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ বীরজিৎবাবু মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী আজ যত ঘোষণা করেছেন তাতে বস্তুত গরীবের কোন লাভ হবে না৷ উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, কর্পোরেটদের ঋণ মকুব করে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ অথচ গরীব কৃষকদের ঋণ সম্পূর্ণ মুকুব করে দেওয়ার বিষয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী কোন ঘোষণাই দেননি৷ সর্বোপরি নগদ নোটের সঙ্কট নিয়েও প্রধানমন্ত্রী কোন দিশা দেখাতে পারেননি৷ তাই বীরজিৎবাবু কটাক্ষের সুরে বলেন, নোট বাতিলের ৫০ দিন পর দেশবাসীর মনে অনেক প্রত্যাশার জন্ম দিলেও প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নতুন কিছুই দিতে পারেননি৷
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিষয়ে তীব্র বিষোদ্গার জাহির করেছেন৷ সুদীপবাবু বলেন, মানুষের আবেগের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর এই প্রক্রিয়া৷ তিনি মনে করেন, আগামীদিনে দেশবাসী অনুভব করতে পারবেন, তাঁদেরকে কিভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে৷
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, যে লক্ষ্য পূরণের জন্য নোট বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তাতে বড়সড় সাফল্য আসেনি৷ অবশ্য একাংশ অর্থনীতিবিদদের ধারণা গত ৫০ দিনে দেশে যে পরিমাণ কালোটাকা এবং নগদ নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান এখনও হাতে এসে পৌঁছায়নি৷ যার কারণে প্রধানমন্ত্রী এদিন এই বিষয়ে চুপ থাকাই শ্রেয় বলে মনে করেছেন৷ সূত্রের খবর, এখন পর্যন্ত চৌদ্দ লক্ষ কোটি টাকা ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে৷ অন্যদিকে নোট বাতিলের পর ৫০ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতশ সত্তর কোটি টাকা নগদ নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ এছাড়াও গত ৫০ দিনে জনধণ একাউন্টে ৭৪ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে৷ তাই ধারণা করা হচ্ছে নোট বাতিলের পদক্ষেপের সাফল্য নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী৷
2017-01-01

