নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ অক্টোবর:
শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে আত্মহত্যা করলেন এক অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা গৃহবধূ। নিজের সাধের অনুষ্ঠানের দিনেই মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। মৃতার নাম পায়েল দত্ত। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে শুক্রবার জিবি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
জানা গেছে, শুক্রবারই ছিল পায়েলের সাধ ভক্ষণ অনুষ্ঠান। কিন্তু সেই দিনই তাঁর জীবনের অবসান ঘটে। মৃতার মায়ের অভিযোগ, বিবাহের পর থেকেই পায়েলের উপর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি গর্ভবতী অবস্থাতেও তাঁর উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
পায়েলের মায়ের অভিযোগ, সাধ ভক্ষণ অনুষ্ঠানের খরচের অর্ধেক টাকা বাপের বাড়ি থেকে আনতে না পারায় পায়েলকে মারধর করা হয়। দীর্ঘদিনের অত্যাচার এবং সেই দিনের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গর্ভের সন্তানসহ বিষ পান করেন তিনি।
গুরুতর অবস্থায় তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে টানা তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষমেশ শুক্রবার মৃত্যু হয় তাঁর।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে মৃতার মা অভিযোগ করেন, “আমার মেয়েকে পণের টাকার জন্যে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করা হতো। আমি অনেকবার বলেছি ওকে একটু ভালোভাবে রাখুন, কিন্তু কেউ শোনেনি। স্বামী প্রায়শই মদ্যপান করে মেয়েটিকে নির্যাতন করতো। একটিদিন ও মেয়েটি শান্তিতে অতিবাহিত করেনি।’
অন্যদিকে, মৃতার স্বামী মিহির দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “পায়েল মানসিকভাবে কিছুদিন ধরে অস্থির ছিল। ও নিজেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

