কৈলাসহর, ১৮ অক্টোবর: বিগত তিন দিন ধরে কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ে (কৈলাসহর কলেজ) কার্যত পঠন-পাঠন বন্ধ রয়েছে। অধ্যাপক ও অধ্যাপিকার অভাবে কলেজে ক্লাস না হওয়ায় প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রীরা শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন।
জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষসহ সমস্ত অধ্যাপক-অধ্যাপিকাকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে স্নাতক স্তরের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। ফলে কলেজে বর্তমানে কেবল একজন অধ্যাপিকা রয়েছেন, যিনি একা গোটা কলেজের ক্লাস চালাতে অসম্ভব বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, কলেজের গেস্ট লেকচারারদের সেপ্টেম্বর মাসে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কাউকে নিয়োগ না করায় তাঁরাও কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম একপ্রকার পুরোপুরি থমকে গেছে।
আঠারো অক্টোবর, শনিবার সকাল ৯টা থেকে কলেজ খোলা থাকলেও দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত শুধুমাত্র এডুকেশন বিষয়ের ক্লাস হয়েছে। ইকোনমিক্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, সংস্কৃত এবং ফিলোসফি বিভাগের শ্রেণীকক্ষ তালাবদ্ধ ছিলো।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দূর-দূরান্ত থেকে তারা প্রতিদিন খরচ করে কলেজে এলেও কোনও শ্রেণি না হওয়ায় সময় এবং অর্থ দুই-ই অপচয় হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজে পঠন-পাঠনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে, কারণ কলেজের অধ্যক্ষকেও ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কলেজে গত তিন দিন ধরে ক্লাস বন্ধ থাকলেও শাসক দলের ছাত্র সংগঠন সহ কোনও বিরোধী ছাত্র সংগঠন এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি। সবাই নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন বলে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষোভ।
কলেজে যিনি একমাত্র শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের আশঙ্কা, আগামী আরও তিন থেকে চারদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে ‘তুঘলকি’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজে দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

