News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • আদমসুমারিতে ‘আদিবাসী ধর্ম’ স্বীকৃতির জন্য পৃথক কলমের দাবি জোরালো, রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি কংগ্রেসের
Image

আদমসুমারিতে ‘আদিবাসী ধর্ম’ স্বীকৃতির জন্য পৃথক কলমের দাবি জোরালো, রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি কংগ্রেসের

আগরতলা, ১৬ অক্টোবর: ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি অন্যতম মৌলিক দিক হলো—সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। এই নীতি অনুসরণ করেই দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠছে। আগামী ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে চলা ভারতের পরবর্তী আদমসুমারিতে এই দাবিকে সামনে রেখেই এবার রাজ্য সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।

তিনি তাঁর প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেছেন, গণতন্ত্রে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও বিশ্বাসের স্বীকৃতি একান্ত জরুরি। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী দেশে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল ৮.৬ শতাংশ। আজ সেই সংখ্যা আরও অনেকটাই বেড়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত রাখার জন্য তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

২০২৭ সালের জনগণনার জন্য কেন্দ্রীয় জনগণনা কর্তৃপক্ষ যে ফরম্যাটের খসড়া প্রকাশ করেছে, তাতে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের জন্য পৃথক কলম রাখা হয়েছে। এছাড়াও একটি ওআরপি কলমে অন্যান্য ধর্মবিশ্বাসকে স্থান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী দাবি করেছেন, দেশের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান, যেমন সারনা, গণ্ডো, দোনি-পোলো, নাতাফ, ওঝা-আচার্যভিত্তিক আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এগুলো ওআরপি-র ছায়াতলে হারিয়ে যাবে। এদের জন্য একটি পৃথক ও স্পষ্ট কলম রাখা জরুরি, যেখানে একজন আদিবাসী নাগরিক তাঁর ধর্ম হিসেবে আদিবাসী ফেইথ’ নির্বাচন করতে পারবেন।

বিবৃতিতে তিনি উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেন, বাড়খণ্ড রাজ্যের বিধানসভা সম্প্রতি এই দাবির পক্ষে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং তা কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট পাঠিয়েছে। সেখানে আদিবাসী ধর্মবিশ্বাসের স্বীকৃতির জন্য আদমসুমারির ফরম্যাটে পৃথক কলম সংযোজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেসের এই মুখপাত্রের দাবি, ত্রিপুরা রাজ্যে আদিবাসী জনসংখ্যা ৩১ শতাংশেরও বেশি। এই জনগোষ্ঠীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অন্যদের থেকে আলাদা। তাই তাঁদের বিশ্বাসের সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হলে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা, সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান, রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব গৃহীত হোক। বিধানসভায় প্রস্তাব পাস, রাজ্য বিধানসভায় ‘আদিবাসী ধর্ম’ স্বীকৃতির পক্ষে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করা হোক।

Releated Posts

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে আগরতলায় এসএফআই – টি এস ইউ – এর বিক্ষোভ মিছিল

আগরতলা, ২০ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল করল এসএফআই ও টিএসইউ। ‘সরকারি…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026

খোয়াইয়ে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় বাইক আরোহীর মৃত্যু, গুরুতর জখম মহিলা

আগরতলা, ২০ আগস্ট: ১০৮ নম্বর জাতীয় সড়কের খোয়াই-আগরতলা সড়কের সুবল সিং এলাকায় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026

ত্রিপুরায় কিউবার রাষ্ট্রদূত, ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

আগরতলা, ২০ আগস্ট: কিউবার বিপ্লবী নেতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026

ভুয়া বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে ফের সরগরম গণ্ডাছড়া, বিদ্যুৎ অফিসে সিপিএমের বিক্ষোভ

গণ্ডাছড়া, ২০ আগস্ট: বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম গণ্ডাছড়া। বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে ভুয়া ও অস্বাভাবিক…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026
Scroll to Top