নয়াদিল্লি, ৪ অক্টোবর : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে সংগৃহীত কফ সিরাপের নমুনা পরীক্ষায় দূষণমুক্ত পাওয়া গেলেও তামিলনাড়ুর উৎপাদনকারী ইউনিট থেকে সংগৃহীত ‘কোলড্রিফ’ কফ সিরাপের একটি ব্যাচে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ডাই-ইথাইলিন গ্লাইকোল পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া থেকে ছয়টি নমুনা সংগ্রহ করেছিল—সবক’টি ডিইজি ও ইথাইলিন গ্লাইকোল মুক্ত ছিল। রাজ্য ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের সংগৃহীত ১৩টির মধ্যে তিনটি নমুনা পরীক্ষা করে, সেগুলিও দূষণমুক্ত পাওয়া যায়। তবে মধ্যপ্রদেশ সরকারের অনুরোধে তামিলনাড়ু এফডিএ কানচিপুরমে শ্রীসান ফার্মার উৎপাদন কেন্দ্রে সরাসরি ‘কোলড্রিফ’-এর নমুনা সংগ্রহ করে। গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত রিপোর্টে সেখানে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ডিইজি ধরা পড়ে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু সরকার ওই কফ সিরাপ নিষিদ্ধ করেছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার ছয় রাজ্যের ১৯টি ওষুধ উৎপাদন কারখানায় ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। এনআইভি, আইসিএমআর, নিয়ারি, সিডিএসসিও এবং এমস nagpur-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বহুবিষয়ক দল শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
ডাই-ইথাইলিন গ্লাইকোল ও ইথাইলিন গ্লাইকোল শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত দ্রাবক, যা অ্যান্টিফ্রিজ, পেইন্ট, ব্রেক ফ্লুইড ও প্লাস্টিক তৈরিতে কাজে লাগে। এগুলি কখনওই ওষুধে ব্যবহারের জন্য নয়। অসতর্কতা বা নিম্নমানের শিল্পজাত কাঁচামাল ব্যবহার করার কারণে ওষুধ তৈরির উপকরণে কখনও কখনও এগুলি মিশে যায়।
ডিইজি বর্ণহীন ও সিরাপজাতীয় তরল হওয়ায় কড়া পরীক্ষার অভাবে একে সহজেই বৈধ উপাদান ভেবে ভুল করা যায়।
শরীরে প্রবেশ করলে ডিইজি ও ইজি ভেঙে বিষাক্ত যৌগে পরিণত হয়, যা কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রথমে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও প্রস্রাব কমে যাওয়া দিয়ে উপসর্গ শুরু হয়। দ্রুতই এটি তীব্র কিডনি বিকল, খিঁচুনি এবং মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
শিশুরা বিশেষত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ অল্প পরিমাণই তাদের শরীরের ওজনের তুলনায় প্রাণঘাতী হতে পারে।
২০২২ সালে গাম্বিয়ায় দূষিত কফ সিরাপের কারণে অন্তত ৭০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
তামিলনাড়ুর ওই ব্যাচে ডিইজি থাকার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর অর্থ, ওষুধটি সেবনের জন্য নিরাপদ নয় এবং বাজারে থাকা উচিত ছিল না। শিগগিরই কর্তৃপক্ষ এটি প্রত্যাহার করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করেছে যে ডিইজি ও ইজি-দূষিত কফ সিরাপের কারণে ২০২২ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ৩০০-রও বেশি শিশু মারা গেছে। এ ধরনের ওষুধ শনাক্তে WHO দুই ধাপের নতুন পরীক্ষার পদ্ধতি তৈরি করেছে—প্রথমে টিএলসি স্ক্রিনিং এবং পরে গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি দ্বারা নিশ্চিতকরণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরকারগুলিকে ওষুধের সরবরাহ চেইনে কঠোর নজরদারি, নিম্নমানের ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং পরীক্ষার মানদণ্ড আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

