নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর : কংগ্রেস নেতা মানীশ তিওয়ারির একটি মন্তব্য ঘিরে ফের উত্তাল দেশের রাজনীতির ময়দান। “অধিকারপ্রাপ্তি এখন আর গ্রহণযোগ্য নয় জেনারেশন এক্স, ওয়াই, জেড-এর কাছে” — এমন মন্তব্য করে তিনি যখন দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টানছিলেন, তখন বিজেপি সেই মন্তব্যকে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে “ভারতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ নেপো কিড” বলে কটাক্ষ করে।
মানীশ তিওয়ারি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স -এ লেখেন, “২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপক্ষের পতন, ২০২৪-র জুলাইয়ে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার পদত্যাগ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের কেপি শর্মা ওলির বিদায় এবং এখন ফিলিপিন্সে ফার্দিনান্ড মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ—এই সব ঘটনায় একটি শব্দই বারবার উঠে আসছে, আর তা হলো ‘অধিকারপ্রাপ্তি’। জেনারেশন এক্স, ওয়াই, জেড এই ‘এনটাইটেলমেন্ট’ আর মেনে নিচ্ছে না।”
তিওয়ারির এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “জেন জেড তো বটেই, এমনকি কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারাও এখন রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিতে অতিষ্ঠ। বিদ্রোহ এখন দলের ভিতর থেকেই শুরু হয়েছে।” সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাহুলকে কটাক্ষ করে বলেন, “তিনি হলেন ভারতীয় রাজনীতির ‘নেপো কিড’।”
এমন মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মানীশ তিওয়ারি। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “ভগবান, আমি শুধু চাই যে কিছু মানুষ জীবনে বড় হবে।”
তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর মন্তব্য কংগ্রেস বা বিজেপিকে নিয়ে নয়। বরং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করাই জরুরি। তাঁর মতে, এসব ঘটনা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাজনীতির বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই ঘটনাগুলিকে দেখা প্রয়োজন।
এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন কংগ্রেসের ভিতর থেকেই এমন বার্তা আসে, তখন তা দলীয় ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে বলেই মত বিশ্লেষকদের। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেনি।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রতি এই পরোক্ষ আক্রমণ এবং বিজেপির প্রত্যাঘাত মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

