নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর — আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলেছে ভারতের পরোক্ষ কর কাঠামোর বড় ধরনের সংস্কার। এর আগে শিল্পমহলের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি বলেন, জিএসটি হারের সংস্কার থেকে প্রাপ্ত সমস্ত সুবিধা যেন সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, “দয়া করে নিশ্চিত করুন যেন আমরা কর হ্রাসের পুরোপুরি সুবিধা গ্রাহকদের দিই। এতে শিল্পক্ষেত্রও উপকৃত হবে।”
জিএসটি কাউন্সিল সম্প্রতি সাবান, ছোট গাড়ি সহ শতাধিক পণ্যে কর কমিয়েছে এবং কর কাঠামো সরলীকরণ করে মূলত দুইটি স্তরে বিভক্ত করেছে — ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। বিলাসবহুল ও ‘সিন গুডস’-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ হার বজায় রাখা হয়েছে। এই সংস্কারের ফলে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার এখন “মিশন মোড”-এ কাজ করছে ব্যবসা সহজতর ও উৎপাদন উৎসাহিত করতে। তিনি জানান, এর অংশ হিসেবে নতুন লজিস্টিক নীতি, নতুন শিল্পনগর গঠন, ছোটখাটো অপরাধের অপরাধীকরণ বিলোপ এবং শিল্পক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গোয়েল জানান, ইতিমধ্যেই কিছু খাত— বিশেষ করে অটোমোবাইল শিল্প — গ্রাহকদের কাছে কর হ্রাসের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহল ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে।
চলতি মাসের শুরুতেই কেন্দ্র সরকার নির্দেশ দেয়, গাড়ি ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দোকানে পুরনো ও নতুন জিএসটি হারের ভিত্তিতে দামের তুলনামূলক তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এই তালিকাগুলি জিএসটি পোর্টালেও প্রকাশ করা হবে, যাতে গ্রাহকদের কাছে মূল্য পরিবর্তনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
সিবিআইসি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্প সংগঠন ও মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করেছে কর হ্রাসের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য। শিল্পমহলও এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান কর হ্রাসের পূর্ণ সুবিধা গ্রাহকদের দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর ফলে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য টেক পণ্যের দাম গড়ে ১০ শতাংশ এবং গাড়ির দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, এবং সামগ্রিকভাবে ভারতের শিল্পক্ষেত্র লাভবান হবে।

