প্রথমবারের মতো মরক্কো সফরে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উদ্বোধন করবেন আফ্রিকায় ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা কারখানা

নয়াদিল্লি/রাবাত | ২০ সেপ্টেম্বর : প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ২২-২৩ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সরকারিভাবে মরক্কো সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি মরক্কোর জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী ডেলিগেট আবদেলতিফ লৌদিয়ির আমন্ত্রণে আয়োজিত হচ্ছে বলে শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই সফরটি ভারতের কোনও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মরক্কোতে প্রথম সফর, যা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিক থেকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে মরক্কোর বেররশিদ -এ টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম ম্যারোক-এর নতুন কারখানা উদ্বোধন, যেখানে হুইলড আর্মার্ড প্ল্যাটফর্ম ৮×৮ এর উৎপাদন হবে। এই ইউনিটটি আফ্রিকার মাটিতে ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র, যা আত্মনির্ভর ভারতের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক নতুন মাত্রা দেবে।

সফরের সময় রাজনাথ সিং মরক্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আবদেলতিফ লৌদিয়ির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, কৌশলগত সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলিতে আলোচনা হবে। এছাড়া, তিনি মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী রিয়াদ মেজজুর -এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে শিল্পখাতে অংশীদারিত্ব নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগের পথ আরও মসৃণ হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, বিগত কয়েক বছরে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ নিয়মিতভাবে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা বন্দরে সফর করে আসছে, এবং এই সমঝোতা স্মারক দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত-মরক্কো সম্পর্ক ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মরক্কোর রাজা মহম্মদ ষষ্ঠ-র বৈঠকের পর থেকে নতুন গতি পেয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফর সেই সম্পর্ককে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও সফরের সময় রাজনাথ সিং রাবাতে ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

সার্বিকভাবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মরক্কো সফর শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের বৈশ্বিক বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।