কাঠমান্ডু, ১২ সেপ্টেম্বর : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জেন-জেড নেতৃত্বাধীন সহিংস আন্দোলনের মাঝে পাঁচতারা হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক ভারতীয় মহিলা প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে, যখন গাজিয়াবাদের বাসিন্দা রামবীর সিং গোলা (৫৮) ও তাঁর স্ত্রী রাজেশ দেবী (৫৫) পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনে কাঠমান্ডুতে ছিলেন।
নিহত রাজেশ দেবীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সহিংসতায় উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে একদল উন্মত্ত বিক্ষোভকারী হোটেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। হোটেলটির সিঁড়ি ধোঁয়ায় ভরে গেলে রামবীর জানালার কাচ ভেঙে বিছানার চাদর বেঁধে নিচে ঝাঁপ দেন। নিচে ম্যাট্রেস রাখা ছিল। তিনি অল্প বিস্তর আহত হলেও স্ত্রী রাজেশ দেবী চাদরে নামতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে কাঠমান্ডুর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর মরদেহ সোনাউলি সীমান্ত হয়ে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ দিয়ে দেশে আনা হয় এবং শুক্রবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নিহতার ছেলে বিশাল জানান, “দুই দিন ধরে মা-বাবার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। পরে বাবা উদ্ধার শিবিরে পাওয়া গেলেও মাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে পাই।” তিনি ভারতীয় দূতাবাস থেকে “প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার” অভিযোগও তোলেন।
নেপালে চলমান উত্তেজনায় বহু ভারতীয় পর্যটক এখনও আটকে রয়েছেন। মুজফ্ফরনগরের দশ সদস্যের একটি তীর্থযাত্রী দল গত তিন দিন ধরে হোটেলের ভিতরেই অবরুদ্ধ। দলে রয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা সুনীল কুমার তায়াল, যিনি উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রদেশের ছত্তারপুর জেলার চারটি পরিবারের ১৪ জন কাঠমান্ডুতে আটকে পড়েছেন। তাঁদের এক সদস্য ভিডিও বার্তায় জানান, তাঁদের হোটেলে খাবার ফুরিয়ে গেছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, “রাজ্য সরকার পুণ্যার্থীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার ১৫৪ ভারতীয়ের জন্য বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছে। ১২ জন তেলেগু পুণ্যার্থীকে নিয়ে একটি চার্টার্ড প্লেন নেপালগঞ্জে অবতরণ করে, আরেকটি প্লেন ১০ জন যাত্রী নিয়ে পোখরা থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছায়। পরে তাঁরা ইন্ডিগো বিমানে ভারতে ফেরেন। এর আগে ২২ জন তেলেগু নাগরিক নিরাপদে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী নারা লোকেশ।
নেপালে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর তরফে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

