আগরতলা, ২৮ আগস্ট : একত্রে চলো স্বাবলম্বী হই, গড়ি নতুন সমাজ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ লালজুড়ি ব্লকের গ্রামীণ জনপদে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষার এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। লালজুড়ি টিআরএলএম ব্লক টিম ও লালজুড়ি ব্লক মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক বিশেষ জনসুরক্ষা বীমা ক্যাম্পের অভিযানে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন এর সদস্যরাই হলেন গ্রামীণ উন্নয়নের প্রকৃত স্তম্ভ।
প্রগতি সিএলএফ ও উন্নতি সিএলএফ-এর কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএসপি) এবং সদস্যগণ তাদের অদম্য উদ্যোগ, ও অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে অসামান্য কাজ করেছেন। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ মোট ৩০১টি প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা এবং ১৪৪টি প্রধান মন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা- এর সম্পূর্ণ ডকুমেন্টেশন সহ আবেদনপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
আজ লালজুড়ি ব্লক কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সমস্ত আবেদনপত্র লীড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার প্রসুন কান্তি দাসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালজুড়ি ব্লকের বিডিও ময়ুখ দত্ত মজুমদার, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা থেকে আগত আরবিআই-র এর আধিকারিক অমন পোদ্দার এবং টিআরএলএম এর ব্লক স্টাফ রনি সুত্রধর , অ্যাকাউন্টেন্ট রাজীব সিনহা, সুষ্মিতা দাস এবং অফিস সহকারী হৃষিকেশ দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রগতি ও উন্নতি সিএলএফ- এর সমস্ত পরিচালন সমিতি ও কার্যনির্বাহী সমিতি -এর সদস্য ও সমস্ত সক্রিয় সিএসপি এই অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলে ।
আবেদনপত্র গ্রহণ করার পর লীড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার প্রসূন কান্তি দাস এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য সমস্ত সিএসপি, সিএলএফ সদস্য ও আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আশ্বাস দেন যে মোট ৪৫০-এরও বেশি এই বীমা আবেদনগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক – পিএনবি, টিজিবি, টিএসসিবি, ক্যানারা, ইউকো ও এসবিআই ইত্যাদি ব্যাংক এর শাখাগুলিতে নিবন্ধিত করা হবে এবং বীমাগ্রহীতাদের বীমা সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে অতিশীঘ্রই।
এই সাফল্য কেবল একটি সংখ্যার শুধু কাহিনী নয়; এটি হল সমষ্টিগত প্রচেষ্টা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বনতার এক জীবন্ত উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অঙ্গীকার থাকলে গ্রামীণ নারী পুরুষদের থেকে ও অসাধ্যকে সাধন করতে পারেন। লালজুড়ির টিআরলএম এই কর্মীগণ দেখিয়ে দিলেন যে তারা আর কেবল সুবিধাভোগী নন, বরং জাতি গঠনের অগ্রদূত, গ্রামীণ উন্নয়নের মেরুদণ্ড। তাদের এই সাফল্য সমগ্র রাজ্যের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রগতি ও উন্নতি প্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন এর সিএসপি ও সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই অনুষ্ঠানটি সাফল্য লাভ করে । এলডিএম আরবিআই ও অফিসিয়াল ব্লকের ভিডিও এই অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন ।

