News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • কংগ্রেসের আক্রমণ, মোদী সরকারের নিরাপত্তা পদক্ষেপে বিতর্ক
Image

কংগ্রেসের আক্রমণ, মোদী সরকারের নিরাপত্তা পদক্ষেপে বিতর্ক

নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই : কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন, বিশেষ করে পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কিত তিক্ত বিতর্কগুলো নিয়ে। তিনি পুলওয়ামা হামলা এবং অপারেশন সিন্দুরের প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন এবং ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী কর্তৃক গঠিত কার্গিল পর্যালোচনা কমিটির সঙ্গে বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাগুলোর তুলনা করেছেন।

রমেশ এক্স টুইট বার্তায় উল্লেখ করেন, “১৯৯৯ সালের ৩০শে জুলাই, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মাত্র তিন দিন পর, বাজপেয়ী সরকার একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন কৌশলগত বিশ্লেষক কে. সুব্রামানিয়াম। সেই কমিটি ১৯৯৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ‘ফ্রম সারপ্রাইজ টু রেকোনিং’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে ২০০০ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ করা হয় এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।”

রমেশ তার মন্তব্যে কার্গিল পর্যালোচনা কমিটির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এই ঘটনাটি ঘটেছিল একটি ভিন্ন প্রধানমন্ত্রী, ভিন্ন শাসক দল এবং ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।” তিনি আরও বলেন, “তবে বর্তমান সরকার যে কোনো ধরনের পর্যালোচনা বা আলোচনার পথ গ্রহণ করতে রাজি নয়, সেটি স্পষ্ট।”

কংগ্রেস নেতা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা পদক্ষেপে গঠনমূলক বিতর্কের অভাব এবং পদক্ষেপের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২২ সালের ২২শে এপ্রিলের পুলওয়ামা হামলার পর, প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি আলোচনায় অংশ নেননি। তার পরিবর্তে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সর্বদলীয় সভার সভাপতিত্ব করেছিলেন। এটি, তার মতে, সরকারের নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

“অপারেশন সিন্দুরের ১৬ ঘণ্টার সংসদীয় বিতর্কের আগেও, সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি,” বলেন রমেশ। তিনি অভিযোগ করেন যে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের সরকারের নেতৃত্বের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

রমেশ পেহলগাম হামলার প্রসঙ্গও তোলেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে হামলাকারীরা এখনও ধরা পড়েনি। “এটা সত্যিই উদ্বেগজনক যে, পুলওয়ামা, গাঙ্গাগির ও গুলমার্গের মতো জঙ্গি হামলাগুলির সঙ্গে পেহলগাম হামলার যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমাদের তদন্তকারী সংস্থাগুলি কেন এই বিষয়টির ওপর নজর দিচ্ছে না?” তিনি জিজ্ঞাসা করেন।

তিনি আরো দাবি করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনো প্রকার নেতৃত্ব প্রদানে আগ্রহী নন এবং শুধুমাত্র সামরিক কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। “২০১৯ সালের পর থেকে এমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একযোগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,” রমেশ বলেন।

রমেশ তার বক্তব্যে সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যও তুলে ধরেছেন, যেখানে সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন শিব কুমারের কৌশলগত ত্রুটির স্বীকারোক্তি এবং অপারেশন সিন্দুরের সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংয়ের চীনা জড়িত থাকার তথ্য এবং জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার নিরাপত্তা ব্যর্থতার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ফাঁস হয়েছে।

রমেশ এই বিতর্কের শেষ অংশে গণমাধ্যমের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা অপারেশন সিন্দুরের সময় প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, “এই বর্ণনাগুলি অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে ভুগছিল এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এর কোনো বড় প্রভাব ছিল না।” তিনি আরও বলেন যে, অপারেশন সিন্দুরের ফলে যে আন্তর্জাতিক সমর্থন আশা করা হয়েছিল, তা খুবই সীমিত ছিল এবং কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি এটি খুব সহজভাবে পাশ কাটিয়ে গিয়েছে।

রমেশ তার মন্তব্যের শেষ অংশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। “ভারতের প্রতি ট্রাম্পের বারবার হস্তক্ষেপের চেষ্টা আমাদের জাতীয় সুরক্ষা কৌশলকে দুর্বল করে দিয়েছে।” রমেশ বলেন, “ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি, বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার নজিরবিহীন মধ্যাহ্নভোজ, সরকারের জন্য একটি কালো দাগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এই মন্তব্যগুলি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের নিরাপত্তা পদক্ষেপ এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে চলমান সমালোচনার অংশ হিসেবে এসেছে। রমেশ বলেছেন, “বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সুরক্ষার জন্য কিভাবে কাজ করছে, সেটা নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সরকার বারবার পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা করছে, কিন্তু আমরা জানি, পাকিস্তান কখনই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করবে না।”

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, কংগ্রেসের এই সমালোচনাগুলি কেবল একদিকে মোদী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। কংগ্রেস জানাতে চাইছে যে, তারা প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় সুরক্ষা বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে প্রস্তুত এবং বিরোধী দলের নেতৃত্বেও তারা এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।

সরকার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে যখন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Releated Posts

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—পাঠ্যক্রমে কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনী: মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী

কলকাতা, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাস্তরের পাঠ্যক্রমে কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনী…

ByByNews Desk Aug 11, 2026

সব ধর্মীয় স্থানে মহিলাদের ‘শালীন পোশাক’ পরার আহ্বান মুসলিম জামাত প্রধানের

বেরেলি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): বৃন্দাবনের ইসকন মন্দিরে দর্শনার্থীদের জন্য পোশাকবিধি চালুর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে ধর্মীয় স্থানগুলিতে মহিলাদের শালীন…

ByByNews Desk Aug 11, 2026

মিথ্যার ভিত্তিতে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করেন রাহুল গান্ধী, ক্রমাগত মিথ্যা ছড়ান: মধ্যপ্রদেশ বিজেপি সভাপতি

নয়াদিল্লি/ভোপাল, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাহুল গান্ধী ‘দ্বিচারিতা’ করছেন বলে অভিযোগ করলেন মধ্যপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি…

ByByNews Desk Aug 11, 2026

রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়ে নিজেদের সমস্যার জন্য লড়াই করুক জেন জি: মায়াবতী

লখনউ, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা পড়ুয়া ও যুবসমাজের আন্দোলন নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষকেই আক্রমণ…

ByByNews Desk Aug 11, 2026
Scroll to Top