রাষ্ট্রসংঘ, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের জবাবে ভারত পাকিস্তানের সামরিক প্রভাব, সন্ত্রাসবাদ এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে।
ভারতের পক্ষে ‘রাইট টু রিপ্লাই’-তে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গাহলত বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সরকার দিনে নিরাপত্তার কথা বললেও রাতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালায়।
গাহলত ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেনের পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিন লাদেন পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমির কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকেই তাঁকে মার্কিন নেভি সিলস অভিযান চালিয়ে হত্যা করে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে গাহলত ‘ফর্ম ৪৭’ নিয়ে বিরোধী মহলে প্রচলিত অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে শরিফ সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে গাহলত পাকিস্তানের ধর্মদ্রোহিতা-সংক্রান্ত আইনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলি আড়াল করা যায় না।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে গাহলত বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইসঙ্গে তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সেখানে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে গাহলত বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে। পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গাহলত বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা পাকিস্তানের নীতি ও বক্তব্যকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করবেন। তিনি আরও বলেন, বারবার একই দাবি করলেই তা সত্যে পরিণত হয় না।



















