নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই : এক রিয়েল এস্টেট সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ এনে দায়ের করা একটি আবেদনে দিল্লি হাইকোর্ট তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে মামলাকারীর উপর ১.২৫ লক্ষ টাকার জরিমানা ধার্য করেছে। গুরুগ্রাম, হরিয়ানায় ব্যাংক ঋণ ও জমি সংক্রান্ত ১,৩১৭ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে আইআরইও রেসিডেন্সেস নামক ওই সংস্থার বিরুদ্ধে।
বিচারপতি মনমিত প্রতীম সিং অরোরা বুধবার রায়দানকালে মামলাকারী গুলশন বাব্বরের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদনে তথ্য গোপনের অভিযোগে কঠোর ভর্ৎসনা করেন। আদালত বলেন, মামলাকারী পূর্ববর্তী আবেদনের বিষয়, চলতি মামলার পটভূমি ও নিজের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। ইডি জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ (পিএমএলএ)-এর আওতায় এখন পর্যন্ত ১,৩৭৬ কোটি টাকার ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ শনাক্ত করে তা অ্যাটাচ করা হয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইডি ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণের ৬০০ কোটি টাকা তছরুপের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়নি। এর উত্তরে ইডি জানায়, যেহেতু ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলি কোনও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেনি, তাই বিষয়টি বর্তমানে মামলার অংশ নয়। আদালত ইডি-র ব্যাখ্যা গ্রহণের পর মন্তব্য করেছে, মামলাকারীর এই দাবি যে ৪,২৪৬.২২ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ রয়েছে এবং তার বড় অংশ অ্যাটাচ করা হয়নি, এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই।”
বিচারপতি অরোরা বলেন, মামলাকারীর পুরনো মামলার কথা গোপন রাখা, আদালতের পুরনো আদেশের ভুল ব্যাখ্যা এবং নিজেকে বিনিয়োগকারী হিসেবে মিথ্যা উপস্থাপন, সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে তিনি আদালতের কাছে অশুচি মনোভাব নিয়ে হাজির হয়েছেন। আদালত আরও জানায়, প্রতিটি আবেদনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১.২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হলো। এই অর্থ দিল্লি হাইকোর্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস কমিটিতে দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে।
গুলশন বাব্বর তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন, আইআরইও এবং তার গ্রুপ সংস্থাগুলির কর্ণধার ললিত গোয়েল ও সপনা গোয়েল আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ইডি-কে পিএমএলএ-র ৫(১) ধারা অনুযায়ী প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার জারির নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে অভিযুক্তরা অপরাধলব্ধ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে না পারেন। তবে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এই আবেদন আইনি ভিত্তিতে টেকসই নয় এবং মামলাকারীর কোনও ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ নেই।
—

