বিদেশ থেকে ইমেইলে পাঠানো অভিযোগেও এফআইআর গ্রহণযোগ্য, জানাল কেরালা হাইকোর্ট

কোচি, ১ জুলাই : শুধুমাত্র অভিযোগটি বিদেশ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং তাতে স্বাক্ষর নেই, এই যুক্তিতে পুলিশ এজাহার (এফআইআর) নিতে অস্বীকার করতে পারে না। এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে কেরালা হাইকোর্ট এমনটাই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

আদালত বলেছে, *ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩ (বিএনএসএস ২০২৩)-এর ধারা ১৭৩ অনুযায়ী ‘জিরো এফআইআর’-এর ধারণা আইনত স্বীকৃত হয়েছে এবং তাই কোনো অভিযোগে যদি আমলযোগ্য অপরাধের ইঙ্গিত থাকে, তাহলে পুলিশ এফআইআর রেজিস্টার করতে বাধ্য। এমনকি অভিযোগ যদি তাদের এক্তিয়ার ছাড়াও আসে বা তা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, জিরো এফআইআরের মূল উদ্দেশ্যই হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যাতে যেকোনো জায়গা থেকেই অভিযোগ জানাতে পারেন, এক্তিয়ার নিয়ে আটকে না পড়েন। তাই, আমলযোগ্য অপরাধ থাকলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকার করতে পারে না। এমনকি যদি এটি স্বাক্ষর ছাড়াই কোনও অন্য দেশ থেকে ইমেল করা হয়।

এই রায়টি এসেছে এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে, যেখানে এক আবেদনকারী বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত। ২০২০ সালে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ইমেইলে কেরালার পুলিশ প্রধানকে পাঠিয়েছিলেন। এসপিসি সেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠালেও স্থানীয় পুলিশ স্বাক্ষর এবং আবেদনকারী সরাসরি উপস্থিত না থাকায় মামলা নিতে অস্বীকার করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারী হাইকোর্টে আবেদন জানাতে বাধ্য হন।

হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করেছে, যদি অভিযোগে আমলযোগ্য অপরাধের উল্লেখ থাকে, তাহলে পুলিশ এফআইআর রেজিস্টার করতে বাধ্য। আবেদনকারী যদি বিদেশে থাকেন কিংবা অভিযোগে স্বাক্ষর না থাকে, তাহলেও এফআইআর নিতে হবে। শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে এফআইআর নিতে অস্বীকার করাকে বিএনএসএস-এর আইনি বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন** হিসেবে উল্লেখ করেছে আদালত।

যেহেতু মূল অভিযোগটি ২০২০ সালে করা হয়েছিল এবং আবেদনকারী নতুন করে অভিযোগ জানাতে ইচ্ছুক, তাই আদালত পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে মাট্টম থানার অফিসার-ইন-চার্জকে নির্দেশ দিয়েছে, নতুন অভিযোগ পেলে বিএনএসএস-এর ধারা ১৭৩ অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই রায় ভবিষ্যতে দেশে ও বিদেশে থাকা অভিযোগকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।