পাটাঞ্জেরু, ৩০ জুন: আজ সোমবার তেলঙ্গানার পাটাঞ্জেরুর পাশামাইলারামে একটি রাসায়নিক কারখানায় ঘটে যাওয়া একটি বিশাল বিস্ফোরণের পর কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু শ্রমিক এখনও কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে রয়েছেন। বিস্ফোরণের সূত্রপাত একটি রিঅ্যাকটর বিস্ফোরণ থেকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে। বিস্ফোরণের ফলে কারখানার একাংশে তীব্র আগুন লেগে যায় এবং এটি আশপাশের এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পাটাঞ্জেরু, হায়দ্রাবাদ শহরের পাশেই অবস্থিত পাশামাইলারাম এলাকায় সিগাচি কেমিক্যালস নামে একটি রাসায়নিক কারখানায় এ বিস্ফোরণটি ঘটে। এটি একটি বাণিজ্যিক শিল্প এলাকা, যেখানে বেশ কয়েকটি রাসায়নিক শিল্প কারখানা রয়েছে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কারখানার বেশ কিছু অংশ উড়ে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই বিস্ফোরণটির ফলস্বরূপ এক মুহূর্তেই বিশাল আকারের আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশের এলাকাগুলিও বিপদগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভিতরে অনেক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অনেক শ্রমিক কারখানার বিভিন্ন অংশে আটকা পড়ে রয়েছেন, এবং উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধারের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা খুবই গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু আগুনের তীব্রতা এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকটি দমকল ইঞ্জিন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা কারখানার ভিতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের বের করার জন্য মানবিক উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, তবে পুরো আগুন নেভানোর কাজ এবং উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে না।
এই দুর্ঘটনার পর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানিয়েছেন এবং তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই দুর্ঘটনায় যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের জন্য আমি গভীর সমবেদনা জানাই।” প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও ঘোষণা করেছেন যে, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া, আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে।
এ ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজে সহায়তা দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যাবেন, যাতে কোনো শ্রমিকের জীবন বাঁচানো যায় এবং সঠিকভাবে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আশপাশের বাড়িগুলোর জানালা কেঁপে উঠেছিল এবং বহু দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একাধিক দমকল বাহিনী এবং অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং উদ্ধারকাজ চলছে।
এই দুর্ঘটনা তেলঙ্গানার জন্য একটি বড় বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে রাসায়নিক শিল্প কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। যদিও তদন্তের কাজ চলছে, তবে নিরাপত্তা নিয়মকানুন আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, রাসায়নিক শিল্প কারখানায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মের অভাবের কারণে এই ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এখন পর্যন্ত, উদ্ধারকাজ চলছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য আসার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসন আশাবাদী যে, যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত শ্রমিককে উদ্ধার করা যাবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
2025-06-30

